ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
গণবার্তা

টাঙ্গাইলে ইজিবাইক চালককে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইলে ইজিবাইক চালককে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় চাঁন মিয়া (৪০) নামে এক ইজিবাইক চালককে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে আলমনগর ইউনিয়নের মাদারজানি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁন মিয়া ওই গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।

গোপালপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালক চাঁন মিয়া ইজিবাইকে এক প্রসূতি রোগী নিয়ে বাড়ি থেকে গোপালপুর হাসপাতালে আসছিলেন। পথে ব্যাপারী পাড়া নামক স্থানে ফরহাদ আলী নামে এক যাত্রী গাড়িতে ওঠার আবদার করেন। কিন্তু যাত্রী প্রসূতি রোগী হওয়ায় অন্য যাত্রী তাতে তোলা যাবে না—এ কথা বললে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তর্কাতর্কি একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন ফরহাদ চাঁন মিয়ার গলাটিপে ধরলে তিনি জ্ঞান হারান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আঁখি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সকালে চাঁন মিয়ার ইজিবাইকে ওঠার জন্য একই গ্রামের কাজম আলীর ছেলে ফরহাদ গোপালপুর যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় চাঁন মিয়া গোপালপুর যেতে রাজি হয়নি বলে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উত্তেজিত হয়ে ফরহাদ চাঁন মিয়ার গলা টিপে ধরলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিস্তেজ হয়ে যান।

পরিবারের দাবি ও থানার বক্তব্য

চাঁন মিয়ার পরিবার জানায়, ইজিবাইকে না ওঠানোর মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অটোতে না উঠতে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁন মিয়ার আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

মাত্র একজন যাত্রী না ওঠানোর কারণেই প্রাণ গেল ইজিবাইক চালকের। প্রসূতি রোগী নিয়ে হাসপাতাল যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুলিশ বলছে নিহতের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল; তবে চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা গলাটিপে ধরার ঘটনাকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখছেন। থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের পর আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। তুচ্ছ ঘটনায় এভাবে প্রাণ যাওয়া যেন আর কখনো না ঘটে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

বিষয় : টাঙ্গাইল গোপালপুর

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


টাঙ্গাইলে ইজিবাইক চালককে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় চাঁন মিয়া (৪০) নামে এক ইজিবাইক চালককে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে আলমনগর ইউনিয়নের মাদারজানি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁন মিয়া ওই গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।গোপালপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালক চাঁন মিয়া ইজিবাইকে এক প্রসূতি রোগী নিয়ে বাড়ি থেকে গোপালপুর হাসপাতালে আসছিলেন। পথে ব্যাপারী পাড়া নামক স্থানে ফরহাদ আলী নামে এক যাত্রী গাড়িতে ওঠার আবদার করেন। কিন্তু যাত্রী প্রসূতি রোগী হওয়ায় অন্য যাত্রী তাতে তোলা যাবে না—এ কথা বললে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তর্কাতর্কি একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। তখন ফরহাদ চাঁন মিয়ার গলাটিপে ধরলে তিনি জ্ঞান হারান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আঁখি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সকালে চাঁন মিয়ার ইজিবাইকে ওঠার জন্য একই গ্রামের কাজম আলীর ছেলে ফরহাদ গোপালপুর যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় চাঁন মিয়া গোপালপুর যেতে রাজি হয়নি বলে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উত্তেজিত হয়ে ফরহাদ চাঁন মিয়ার গলা টিপে ধরলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিস্তেজ হয়ে যান।পরিবারের দাবি ও থানার বক্তব্যচাঁন মিয়ার পরিবার জানায়, ইজিবাইকে না ওঠানোর মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অটোতে না উঠতে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁন মিয়ার আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।’তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।মাত্র একজন যাত্রী না ওঠানোর কারণেই প্রাণ গেল ইজিবাইক চালকের। প্রসূতি রোগী নিয়ে হাসপাতাল যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুলিশ বলছে নিহতের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল; তবে চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা গলাটিপে ধরার ঘটনাকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখছেন। থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের পর আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। তুচ্ছ ঘটনায় এভাবে প্রাণ যাওয়া যেন আর কখনো না ঘটে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা