ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ডিসি সম্মেলন শেষ, মাঠ প্রশাসনের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা

ডিসি সম্মেলন শেষ, মাঠ প্রশাসনের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গত ৩ মে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন বুধবার রাতে শেষ হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনে এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন। এতে জেলা প্রশাসকদের দেওয়া ৪৯৮টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা বিষয়গুলো নিয়ে ৩৪টি অধিবেশনে আলোচনা হয়। সম্মেলন শেষে মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

পাঁচটি অধ্যায়ে সাজানো প্রতিবেদনটি নিচে উপস্থাপন করা হলো।

প্রথম অধ্যায়: সংস্কৃতি, পর্যটন, অর্থনীতি ও কৃষি

সম্মেলনের প্রথম দুই দিনে সংস্কৃতি, পর্যটন, অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্প খাত নিয়ে আলোচনা হয়। সংস্কৃতি রক্ষায় পুরাতন নিদর্শন সংরক্ষণ, রাজবাড়ি মেরামত ও নতুন শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতের প্রসারে কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নতুন হোটেল-মোটেল তৈরি এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, নগদহীন লেনদেন চালু এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলাফল যাচাই ও রাজস্ব আদায়ে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য খাতে চিংড়ি উৎপাদন বাড়ানো, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বন্ধ কারখানা চালু করা, নতুন শিল্পনীতি তৈরি এবং জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছেন নীতিনির্ধারকরা।

দ্বিতীয় অধ্যায়: যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো

সম্মেলনের তৃতীয় দিনে যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যোগাযোগ খাতে মহাসড়কে ক্যামেরা বসানো, যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন সেতু ও রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং ঈদে যানজট কমাতে মাঠ প্রশাসনকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী-খাল খনন, নদীভাঙন রোধ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতে সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানো, ক্ষতিকর ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ, আইটি পার্ক চালু এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া এবং জ্বালানি খাতের অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হালনাগাদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া বন্ধ করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশনা দিয়ে অধিবেশন শেষ হয়।

তৃতীয় অধ্যায়: ভূমি ব্যবস্থাপনা

ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কমানো, জলমহাল খনন এবং ভূমি অফিসে কর্মী সংকট দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে ভূমি মেলার আয়োজনের কথাও আলোচনায় এসেছে।

চতুর্থ অধ্যায়: পরিবেশ, সমাজকল্যাণ ও নিরাপত্তা

সম্মেলনের শেষ দিনে পরিবেশ, সমাজকল্যাণ, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে গাছ লাগানো, বনভূমি রক্ষা এবং পাহাড় কাটা ও বালু তোলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রতিটি জেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি, যৌন হয়রানি বন্ধে আইন করা এবং শিশুদের শারীরিক বিকাশে খেলার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

জননিরাপত্তায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি বসানো, কারাগারে সংশোধনমূলক কাজ বাড়ানো এবং শিল্প এলাকায় আগুন নেভানোর সুবিধা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে জেলা পর্যায়ে তথ্য কমপ্লেক্স তৈরি এবং আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়: দুর্নীতি প্রতিরোধ ও বিশেষ নির্দেশনা

দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালু এবং উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তরুণদের দক্ষ করে তোলা এবং শিশুদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে নতুন স্টেডিয়াম ও সাঁতারপুল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে দেওয়া প্রায় দশ হাজার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এই অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারে এবং প্রয়োজনে মামলা ও অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নীতিবিরোধীভাবে দেওয়া লাইসেন্স জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময় দায়ের করা রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। তবে খুন, অস্ত্র বা মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের মামলা এই আওতায় আসবে না। পাঁচ আগস্ট পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাগুলোতে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিক হয়রানি না হন, সেদিকে নজর রাখতে ডিসিদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে ভুল ও অপতথ্য মোকাবিলা জরুরি। এ জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম জেলা প্রশাসকদের দুর্নীতি প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সততা স্টোরগুলো কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজ করছে না, ডিসিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গেলে যেন নিয়মিত সেগুলোর কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন। মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ডিসি সম্মেলন শেষ, মাঠ প্রশাসনের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গত ৩ মে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন বুধবার রাতে শেষ হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনে এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন। এতে জেলা প্রশাসকদের দেওয়া ৪৯৮টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা বিষয়গুলো নিয়ে ৩৪টি অধিবেশনে আলোচনা হয়। সম্মেলন শেষে মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।পাঁচটি অধ্যায়ে সাজানো প্রতিবেদনটি নিচে উপস্থাপন করা হলো।প্রথম অধ্যায়: সংস্কৃতি, পর্যটন, অর্থনীতি ও কৃষিসম্মেলনের প্রথম দুই দিনে সংস্কৃতি, পর্যটন, অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্প খাত নিয়ে আলোচনা হয়। সংস্কৃতি রক্ষায় পুরাতন নিদর্শন সংরক্ষণ, রাজবাড়ি মেরামত ও নতুন শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতের প্রসারে কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নতুন হোটেল-মোটেল তৈরি এবং সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, নগদহীন লেনদেন চালু এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলাফল যাচাই ও রাজস্ব আদায়ে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য খাতে চিংড়ি উৎপাদন বাড়ানো, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বন্ধ কারখানা চালু করা, নতুন শিল্পনীতি তৈরি এবং জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছেন নীতিনির্ধারকরা।দ্বিতীয় অধ্যায়: যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসম্মেলনের তৃতীয় দিনে যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যোগাযোগ খাতে মহাসড়কে ক্যামেরা বসানো, যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন সেতু ও রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং ঈদে যানজট কমাতে মাঠ প্রশাসনকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী-খাল খনন, নদীভাঙন রোধ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতে সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানো, ক্ষতিকর ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ, আইটি পার্ক চালু এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া এবং জ্বালানি খাতের অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হালনাগাদের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা, অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া বন্ধ করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশনা দিয়ে অধিবেশন শেষ হয়।তৃতীয় অধ্যায়: ভূমি ব্যবস্থাপনাভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কমানো, জলমহাল খনন এবং ভূমি অফিসে কর্মী সংকট দূর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে ভূমি মেলার আয়োজনের কথাও আলোচনায় এসেছে।চতুর্থ অধ্যায়: পরিবেশ, সমাজকল্যাণ ও নিরাপত্তাসম্মেলনের শেষ দিনে পরিবেশ, সমাজকল্যাণ, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে গাছ লাগানো, বনভূমি রক্ষা এবং পাহাড় কাটা ও বালু তোলা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রতিটি জেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার তৈরি, যৌন হয়রানি বন্ধে আইন করা এবং শিশুদের শারীরিক বিকাশে খেলার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।জননিরাপত্তায় মাদক, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি বসানো, কারাগারে সংশোধনমূলক কাজ বাড়ানো এবং শিল্প এলাকায় আগুন নেভানোর সুবিধা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে জেলা পর্যায়ে তথ্য কমপ্লেক্স তৈরি এবং আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।পঞ্চম অধ্যায়: দুর্নীতি প্রতিরোধ ও বিশেষ নির্দেশনাদুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালু এবং উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তরুণদের দক্ষ করে তোলা এবং শিশুদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে নতুন স্টেডিয়াম ও সাঁতারপুল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে দেওয়া প্রায় দশ হাজার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এই অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারে এবং প্রয়োজনে মামলা ও অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নীতিবিরোধীভাবে দেওয়া লাইসেন্স জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময় দায়ের করা রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। তবে খুন, অস্ত্র বা মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের মামলা এই আওতায় আসবে না। পাঁচ আগস্ট পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাগুলোতে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিক হয়রানি না হন, সেদিকে নজর রাখতে ডিসিদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে ভুল ও অপতথ্য মোকাবিলা জরুরি। এ জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম জেলা প্রশাসকদের দুর্নীতি প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সততা স্টোরগুলো কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজ করছে না, ডিসিরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গেলে যেন নিয়মিত সেগুলোর কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন। মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা