ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
গণবার্তা

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, অভিযুক্ত গৃহকর্তা পলাতক

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, অভিযুক্ত গৃহকর্তা পলাতক

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল একটি বাড়ি থেকে এক নারী, তাঁর তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক। আজ শনিবার সকালে ফোরকান নিজে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বজনদের কল করে জানান।

রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়

অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।

ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান প্রাইভেট কার চালাতেন। আর তাঁর শ্যালক রসুল গাজীপুর সদরের একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

কীভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

নিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি স্বজনদের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। তাঁর ভাষ্য, ভাতিজির স্বামী কল করে নিজেই হত্যার কথা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, ঘরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।

শারমিনের আরেক ফুফু ইভা আক্তার জানান, ফোরকান তাঁর ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মাইরা ফেলছি। আমারে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে তাঁরা পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে তাঁরা মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।

হত্যাকাণ্ডের কারণ

ইভা আক্তারের দাবি, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল।

ঘর থেকে উদ্ধার ‘অভিযোগের কপি’

ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শ্বশুর তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তাঁর এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাঁকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।

নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।’

পুলিশের বক্তব্য

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ছয়টার দিকে ফোরকান তাঁর গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, অভিযুক্ত গৃহকর্তা পলাতক

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল একটি বাড়ি থেকে এক নারী, তাঁর তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক। আজ শনিবার সকালে ফোরকান নিজে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বজনদের কল করে জানান।রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান প্রাইভেট কার চালাতেন। আর তাঁর শ্যালক রসুল গাজীপুর সদরের একটি কারখানায় চাকরি করতেন।কীভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ডনিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি স্বজনদের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। তাঁর ভাষ্য, ভাতিজির স্বামী কল করে নিজেই হত্যার কথা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, ঘরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।শারমিনের আরেক ফুফু ইভা আক্তার জানান, ফোরকান তাঁর ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মাইরা ফেলছি। আমারে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে তাঁরা পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে তাঁরা মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।হত্যাকাণ্ডের কারণইভা আক্তারের দাবি, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল।ঘর থেকে উদ্ধার ‘অভিযোগের কপি’ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শ্বশুর তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তাঁর এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাঁকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ‘আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।’পুলিশের বক্তব্যগাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন। আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ছয়টার দিকে ফোরকান তাঁর গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা