রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত সানজিদা হত্যা মামলার ঘটনায় মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক মুজাহিদ ইসলামের পিতা সেকেন্দার আলী। তিনি উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, সানজিদা হত্যা মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুজাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর সানজিদা (৯) নামে এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানি পাড়া গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিহত সানজিদা ওই গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ২০ জুন সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। পরদিন পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। সানজিদার বাবা ইদ্রিস আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি বিচার চাই। আমার মেয়েকে কে বা কারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’ এলাকাবাসী এই ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে। আটক মুজাহিদ ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি রংপুরের তারাগঞ্জে আলোচিত একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার এবং অপরাধীদের শাস্তি দেখতে চায়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সঠিক তদন্ত করছে এবং জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে। সানজিদার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন