জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে সরকার। এ ঘোষণা আগামী বছরের ২৫শে মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আর তা চলতি বছরের ২৫শে মে থেকে কার্যকর হবে। রোববার গেজেটে প্রকাশিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে গত ২৫শে মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এ বছরের ২৫শে মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫শে মে পর্যন্ত এক বছর নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন তা প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণার বিশেষ তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘শুধু জন্মবার্ষিকী নয়, নজরুলের চেতনা ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। এটি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বছরকে কেন্দ্র করে নয়; বরং নজরুলের কর্ম ও দর্শনকে সার্বজনীন করে তোলার একটি প্রচেষ্টা।’ এর আগে ১৯৭৬ সালে নজরুলের মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো ‘নজরুল বর্ষ’ পালিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সরকারি উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ’ পালিত হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নজরুল গবেষণা, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এই বর্ষ উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে সরকার। কবির জন্মস্থান ত্রিশাল ও ঢাকার নজরুল ইনস্টিটিউটে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। নজরুল বর্ষের এই ঘোষণায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিজনিত মহলে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলেছেন, এই উদ্যোগ নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাম্যবাদী দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে। নজরুলের পরিবারের সদস্যরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই বর্ষকে ঘিরে নানা উদ্যোগ নেবে এবং কবির আদর্শকে ধারণ করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আগামী কয়েক মাসে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে নজরুলের রচনাবলি প্রকাশ, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি ও গবেষণামূলক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। তার সাহিত্যকর্ম আজও বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস। ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের মধ্য দিয়ে সেই প্রেরণাকে ধারণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন