ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১০ মে ২০২৬
গণবার্তা

পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, আইন মেনে চলবে: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, আইন মেনে চলবে: প্রধানমন্ত্রী
গণবার্তা । গ্রাফিক্স

পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বরং বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত পুলিশের কল্যাণ প্যারেডে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদেশে বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নয়; তারাই রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার। পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হতে পারে, সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে সরকারেরও সাফল্য।

থানাগুলোর পরিবেশ এমন করতে চান যেন একজন মানুষ সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে ও প্রতিকার পেতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন সম্ভব। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের জনগণ ভিন্ন চিত্রও দেখেছে।

‘বাংলাদেশ যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে—আসুন এই ২০২৬ সালের পুলিশ সপ্তাহে সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ফ্যাসিবাদী সরকার themselves হীন দলীয় স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। জনগণের বিশ্বাস অর্জন ও বজায় রাখা পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ।

ওভারটাইম ভাতা ও অন্যান্য ঘোষণা

আইজিপি থেকে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত সবাইকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার বিষয়টি সরকার ভাবছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বাহিনীকে জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী পুলিশের যৌক্তিক দাবি পূরণ করবে। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার, যা তাদের মনোবল ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও আরও আধুনিক করে গড়ে তোলা হবে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন ও আবাসন সমস্যা দূরীকরণেও সরকার আন্তরিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আরও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। মব কালচার পুরোপুরি বন্ধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

বিষয় : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ পুলিশ সপ্তাহ

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১০ মে ২০২৬


পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, আইন মেনে চলবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image
পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বরং বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত পুলিশের কল্যাণ প্যারেডে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদেশে বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নয়; তারাই রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার। পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস ও নিরাপত্তার প্রতীক হতে পারে, সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে সরকারেরও সাফল্য।থানাগুলোর পরিবেশ এমন করতে চান যেন একজন মানুষ সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে ও প্রতিকার পেতে পারেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন সম্ভব। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের জনগণ ভিন্ন চিত্রও দেখেছে।‘বাংলাদেশ যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে—আসুন এই ২০২৬ সালের পুলিশ সপ্তাহে সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ফ্যাসিবাদী সরকার themselves হীন দলীয় স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। জনগণের বিশ্বাস অর্জন ও বজায় রাখা পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ।ওভারটাইম ভাতা ও অন্যান্য ঘোষণাআইজিপি থেকে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত সবাইকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার বিষয়টি সরকার ভাবছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বাহিনীকে জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী পুলিশের যৌক্তিক দাবি পূরণ করবে। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার, যা তাদের মনোবল ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।তিনি আরও জানান, পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও আরও আধুনিক করে গড়ে তোলা হবে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন ও আবাসন সমস্যা দূরীকরণেও সরকার আন্তরিক।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আরও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। মব কালচার পুরোপুরি বন্ধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করা হবে বলেও জানান তিনি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তৃতা করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা