ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
গণবার্তা

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম মোজাফফর, অভিযুক্ত সহোদর ভাই গ্রেপ্তার

ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম মোজাফফর, অভিযুক্ত সহোদর ভাই গ্রেপ্তার

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার কোনো মিল না পাওয়ায় আদালত তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—কিশোরীর সহোদর বড় ভাই মোরশেদই ওই সন্তানের জৈবিক পিতা।

পুলিশ জানায়, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং মোরশেদকে রক্ষা করতেই মক্তব শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর সত্য উদঘাটিত হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন। আগস্টে কিশোরী, নবজাতক ও মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ।

মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর মোজাফফর আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর অন্য কোনো মসজিদে চাকরি পাননি। মামলার খরচ চালাতে বসতভিটা বিক্রি করতে হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর হামলায় তার বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, “এ ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য প্রকাশ পেয়েছে।”

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের স্থানীয় নেতা মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “তিনি একজন মজলুম ইমাম। তার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে? তাকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত।”

পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, “ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে মোজাফফরের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রকৃত অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর বড় ভাই।”

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


ফেনীতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম মোজাফফর, অভিযুক্ত সহোদর ভাই গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার কোনো মিল না পাওয়ায় আদালত তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—কিশোরীর সহোদর বড় ভাই মোরশেদই ওই সন্তানের জৈবিক পিতা।পুলিশ জানায়, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং মোরশেদকে রক্ষা করতেই মক্তব শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর সত্য উদঘাটিত হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন। আগস্টে কিশোরী, নবজাতক ও মোরশেদের ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ।মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর মোজাফফর আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর অন্য কোনো মসজিদে চাকরি পাননি। মামলার খরচ চালাতে বসতভিটা বিক্রি করতে হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর হামলায় তার বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, “এ ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য প্রকাশ পেয়েছে।”জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের স্থানীয় নেতা মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “তিনি একজন মজলুম ইমাম। তার মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে? তাকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত।”পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, “ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর চার্জশিট থেকে মোজাফফরের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রকৃত অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর বড় ভাই।”

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা