কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলিতে আজ এক অদ্ভুত নীরবতা। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই গলি। মন্ত্রীদের দামি গাড়ি, পুলিশের সাইরেন আর কর্মীদের ভিড়ে গিজগিজ করা চত্বর এখন নিস্তব্ধ। পুরনো বাসিন্দারাও মনে করতে পারছেন না, শেষ কবে এভাবে শান্ত ছিল কালীঘাট।
পালাবদলের প্রতিচ্ছবি
আজ পঁচিশে বৈশাখ। কলকাতার আকাশে চড়া রোদ, আর বাতাসে পরিবর্তনের গন্ধ। ঠিক সেই সময়ে গঙ্গার ওপারে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ মানুষের উল্লাসের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর কালীঘাটের বাড়িতে নিভৃতেই কাটালেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার দিন
ভোটের ফলাফলের পর থেকে প্রায় নীরব থাকা মমতা শনিবার এক্সে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, “পঁচিশে বৈশাখের এই পুণ্য দিনে বিশ্ববন্দিত শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে নিবেদন করি আমার অন্তহীন প্রণাম।”
কালীঘাটের বাড়িতেই আয়োজন করা হয় রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের নেতৃত্বস্থানীয় সদস্যরা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইন্দ্রনীল সেন ও বাবুল সুপ্রিয়। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটাই তৃণমূলনেত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।
প্রশাসনিক পরিবর্তন
• মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে দীর্ঘদিনের সিজার্স ব্যারিকেড।
• অতিরিক্ত পুলিশি পাহারা নেই, প্রতিবেশীদের জন্যও আর কোনো পরিচয়পত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
• কলকাতা পুলিশের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা ও অভিষেককে আনফলো করে নতুন নেতৃত্বকে ফলো করা হয়েছে।
• বিধানসভায় পুরনো নামফলক সরিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭ আসনে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে। এই পালাবদল শুধু প্রশাসনিক নয়, প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কালীঘাটের নীরবতা যেন বাংলার রাজনীতির নতুন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন