ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গণবার্তা

পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতিসংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, যারা সিএএ-এর আওতায় পড়বেন না, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, এদের গ্রেপ্তার করে বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’—এই নীতির ভিত্তিতেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরনবান্নে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএসএফ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয় বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত থানাগুলোতে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে এবং রাজ্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সিএএ-এর পটভূমিসিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আগত নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টান) মানুষদের নাগরিকত্বের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এর বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতা চলে আসছে।রাজনৈতিক বিতর্কএই ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরেই সিএএ কার্যকরের বিরোধিতা করে আসছে। পূর্ববর্তী প্রশাসন এই আইন বাস্তবায়ন না করার অবস্থান নিয়েছিল বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়।পরিস্থিতির ভবিষ্যৎনতুন এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি রাজনৈতিক অবস্থান—এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন রাজ্যের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে সিএএ বাস্তবায়ন ও বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর কেন্দ্রের নির্দেশনার প্রতিফলন, অন্যদিকে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতি অভিবাসন ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এর প্রভাব এখন দেখার বিষয়। আইন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা— দুটোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কার্যকরের ঘোষণা শুভেন্দুর