ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

নকলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী-স্বজন

নকলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী-স্বজন

শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিম্পা খাতুন (২৪) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

নিহত শিম্পা খাতুনের শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ১ নম্বর ছনধরা ইউনিয়নের লাউয়াই গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মহিজুল ইসলামের স্ত্রী।

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শিম্পা খাতুন অসুস্থ দাবি করে তার স্বামী মহিজুল ইসলামসহ পাঁচজন মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে কৌশলে মরদেহ রেখে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মালিহা নুঝাত বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করা হয়। রিপোর্টে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তারা একেকজন একেক রকম তথ্য দেন। পুলিশকে খবর দেওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যান।’

স্থানীয়রা জানান, চার-পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে মহিজুল ও শিম্পার বিয়ে হয়। শনিবার (৯ মে) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এর জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের বাবা নায়েব আলী অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের পর থেকেই জামাই বিভিন্নভাবে টাকার জন্য নির্যাতন করত। সে জুয়া খেলত। মেয়েকে ১৮ হাজার টাকার মোবাইল কিনে দিলেও তা বিক্রি করে আবার টাকা চাইত। টাকা না দেওয়ায় মেয়ের মাথায় আঘাত করেছে। মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিয়েতে আমি রাজি ছিলাম না। পরে সবার অনুরোধে রাজি হই। জামাইয়ের ইনকামের জন্য ভ্যানগাড়ি কিনে দিয়েছি, বসতভিটা কিনে বাড়িও করে দিয়েছি।’

ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে টিম পাঠিয়েছি। গতরাত থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। বিষয়টি তদন্তাধীন।’

নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র জানান, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে স্বামীসহ স্বজনরা মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। পুলিশ এসে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


নকলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী-স্বজন

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image
শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিম্পা খাতুন (২৪) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয়।নিহত শিম্পা খাতুনের শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ১ নম্বর ছনধরা ইউনিয়নের লাউয়াই গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মহিজুল ইসলামের স্ত্রী।নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শিম্পা খাতুন অসুস্থ দাবি করে তার স্বামী মহিজুল ইসলামসহ পাঁচজন মিলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে কৌশলে মরদেহ রেখে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারা।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মালিহা নুঝাত বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করা হয়। রিপোর্টে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তারা একেকজন একেক রকম তথ্য দেন। পুলিশকে খবর দেওয়ার আগেই তারা পালিয়ে যান।’স্থানীয়রা জানান, চার-পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে মহিজুল ও শিম্পার বিয়ে হয়। শনিবার (৯ মে) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এর জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নিহতের বাবা নায়েব আলী অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের পর থেকেই জামাই বিভিন্নভাবে টাকার জন্য নির্যাতন করত। সে জুয়া খেলত। মেয়েকে ১৮ হাজার টাকার মোবাইল কিনে দিলেও তা বিক্রি করে আবার টাকা চাইত। টাকা না দেওয়ায় মেয়ের মাথায় আঘাত করেছে। মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘বিয়েতে আমি রাজি ছিলাম না। পরে সবার অনুরোধে রাজি হই। জামাইয়ের ইনকামের জন্য ভ্যানগাড়ি কিনে দিয়েছি, বসতভিটা কিনে বাড়িও করে দিয়েছি।’ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে টিম পাঠিয়েছি। গতরাত থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। বিষয়টি তদন্তাধীন।’নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র জানান, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে স্বামীসহ স্বজনরা মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। পুলিশ এসে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা