ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

যুদ্ধবিরতিতেই ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে নিহত ৫১, চিকিৎসাকর্মীরাও নেই সুরক্ষায়

যুদ্ধবিরতিতেই ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে নিহত ৫১, চিকিৎসাকর্মীরাও নেই সুরক্ষায়

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে। তারা সরাসরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’

স্বাস্থ্য স্থাপনায় হামলা

বিবৃতিতে বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দুটি স্থাপনায় পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ১৩০টির বেশি হামলায় অন্তত ১০৩ জন লেবানিজ চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং ২৩০ জন আহত হয়েছেন।

চিকিৎসাকর্মীদের হাহাকার

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের সিভিল ডিফেন্স প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রতি সেকেন্ড, প্রতিটি দিন আমরা হুমকির মধ্যে আছি। আমরা প্রতিনিয়ত ভাবি—বেঁচে থাকব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন আগেই জীবন ছেড়ে দিয়েছি। এত মানুষ হারিয়েছি যে মনে হয় আমরাও যেন আর বেঁচে নেই।’

টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক উবাইদা হিত্তো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে সশস্ত্র সংঘাতে চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু এই যুদ্ধফ্রন্টে প্রশ্ন হলো, আরেকটি হামলা হবে কি না—তা নয়; বরং হামলার পর সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতো কতজন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে।’

গাজার মতো একই চিত্র লেবাননে

গাজা ও লেবানন—উভয় জায়গাতেই কাজ করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে তিনি দুই অঞ্চলের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় আমরা নিয়মিত সহকর্মীদের মরদেহ হাসপাতালে আসতে দেখেছি। আমার সহকর্মী, নার্স, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইসরায়েলি হামলায় নিহত হতে দেখেছি। লেবাননেও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার একই নীতি দেখা যাচ্ছে।’

ডা. তাহির মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘ইসরায়েল সুযোগ পেলে পুরো দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিত এবং তা তারা আগামীকালই করত। মানুষের জীবনের প্রতি তাদের কোনো গুরুত্ব নেই। আমি নিজের চোখে তা দেখেছি।’

বাস্তুচ্যুতির মাত্রা ১২ লাখ ছাড়াল

চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলার মাত্রা কমার বদলে আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন তৃতীয় সপ্তাহ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


যুদ্ধবিরতিতেই ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে নিহত ৫১, চিকিৎসাকর্মীরাও নেই সুরক্ষায়

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে। তারা সরাসরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’স্বাস্থ্য স্থাপনায় হামলাবিবৃতিতে বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দুটি স্থাপনায় পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ১৩০টির বেশি হামলায় অন্তত ১০৩ জন লেবানিজ চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং ২৩০ জন আহত হয়েছেন।চিকিৎসাকর্মীদের হাহাকারদক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের সিভিল ডিফেন্স প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রতি সেকেন্ড, প্রতিটি দিন আমরা হুমকির মধ্যে আছি। আমরা প্রতিনিয়ত ভাবি—বেঁচে থাকব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন আগেই জীবন ছেড়ে দিয়েছি। এত মানুষ হারিয়েছি যে মনে হয় আমরাও যেন আর বেঁচে নেই।’টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক উবাইদা হিত্তো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে সশস্ত্র সংঘাতে চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু এই যুদ্ধফ্রন্টে প্রশ্ন হলো, আরেকটি হামলা হবে কি না—তা নয়; বরং হামলার পর সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতো কতজন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে।’গাজার মতো একই চিত্র লেবাননেগাজা ও লেবানন—উভয় জায়গাতেই কাজ করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে তিনি দুই অঞ্চলের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গাজায় আমরা নিয়মিত সহকর্মীদের মরদেহ হাসপাতালে আসতে দেখেছি। আমার সহকর্মী, নার্স, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইসরায়েলি হামলায় নিহত হতে দেখেছি। লেবাননেও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার একই নীতি দেখা যাচ্ছে।’ডা. তাহির মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘ইসরায়েল সুযোগ পেলে পুরো দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিত এবং তা তারা আগামীকালই করত। মানুষের জীবনের প্রতি তাদের কোনো গুরুত্ব নেই। আমি নিজের চোখে তা দেখেছি।’বাস্তুচ্যুতির মাত্রা ১২ লাখ ছাড়ালচলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলার মাত্রা কমার বদলে আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন তৃতীয় সপ্তাহ চলছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা