ঢাকা    মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
গণবার্তা

মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’ ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের এসব অনিয়ম ও ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর এসে পড়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, রূপপুর প্রকল্পে বিদেশিদের কোয়ার্টারের জন্য একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং ৩০–৩৫ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ৪–৫ লাখ টাকায়। তিনি বলেন, পাশের দেশে একই ধরনের প্রকল্পে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও বাংলাদেশে রূপপুরে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে টানেলের মুখে গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা তোলা হলেও বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। অপর প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।

এলজিআরডির দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলাতেই কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। কয়েকটি বিভাগ মিলিয়ে একটি জেলাতেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হদিস নেই।

পদ্মা সেতুর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যমুনা সেতু বা ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতু ১৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে করা সম্ভব হলেও পদ্মা সেতুতে খরচ হয়েছে ৫৪–৫৬ হাজার কোটি টাকা। তারেক রহমান বলেন, “আজ যদি এই অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো না হতো, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হতো।”

পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসন, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের লুটপাটের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে ধৈর্য ধরতে হবে।

একই দিনে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে। নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার চিরস্থায়ী নয়, একইভাবে কারও পদ-পদবীও ক্ষণস্থায়ী। তাই মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশবাহিনী গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে অতীতের মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা উঠে এসেছে, অন্যদিকে বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তা দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ‘ব্যাপক দুর্নীতি’ ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের এসব অনিয়ম ও ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর এসে পড়েছে।সোমবার (১১ মে) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, রূপপুর প্রকল্পে বিদেশিদের কোয়ার্টারের জন্য একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং ৩০–৩৫ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ৪–৫ লাখ টাকায়। তিনি বলেন, পাশের দেশে একই ধরনের প্রকল্পে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও বাংলাদেশে রূপপুরে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে টানেলের মুখে গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা তোলা হলেও বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। অপর প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করে শত শত কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।এলজিআরডির দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পিরোজপুর জেলাতেই কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। কয়েকটি বিভাগ মিলিয়ে একটি জেলাতেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হদিস নেই।পদ্মা সেতুর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যমুনা সেতু বা ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতু ১৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে করা সম্ভব হলেও পদ্মা সেতুতে খরচ হয়েছে ৫৪–৫৬ হাজার কোটি টাকা। তারেক রহমান বলেন, “আজ যদি এই অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো না হতো, তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হতো।”পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসন, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের লুটপাটের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে ধৈর্য ধরতে হবে।একই দিনে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে। নিরাপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, সরকার চিরস্থায়ী নয়, একইভাবে কারও পদ-পদবীও ক্ষণস্থায়ী। তাই মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশবাহিনী গড়ে তুলতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে অতীতের মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক ব্যয়ের সমালোচনা উঠে এসেছে, অন্যদিকে বর্তমান পুলিশ বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তা দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা