চুয়াডাঙ্গার শহরতলীতে নাচ-গান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকটক করার অভিযোগে সুবর্ণা আক্তার নামের এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ঝিনাইদহ থেকে ওই নারীর মরদেহ চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে দাফন কার্যক্রম সাময়িকভাবে থমকে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে সুবর্ণার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সেখানে তাঁর দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ করার পর বিকেলে তাঁর মরদেহ চুয়াডাঙ্গার পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু মরদেহটি এলাকায় পৌঁছানোর পর পরই স্থানীয়দের একটি অংশ কবরস্থানে দাফন করা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও চলাফেরা নিয়ে এলাকাবাসীর একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এ ছাড়া ওই পরিবারের বিরুদ্ধে কিছু সামাজিক ও মাদকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় কবরস্থানে মরদেহ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। কবরস্থানের নিজস্ব নিয়ম ও সদস্যপদের জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন কয়েকজন বাসিন্দা।
অন্যদিকে, সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এটিকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর সৎ বাবা জানান, এর আগেও তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের একই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, কিন্তু এবার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি তাদের কবর খুঁড়তেও দেওয়া হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তারা অন্য কোনো স্থানে বিকল্প উপায়ে দাফনের কথা চিন্তা করছেন।
পারিবারিক সূত্র থেকে আরও জানা যায়, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের আগে চুয়াডাঙ্গার এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি প্রথম সংসার ছেড়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ের পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
ঘটনার খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় বিষয়টি সমাধান করে দাফন সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা চলছে।
একজন মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে এমন সামাজিক ও মানসিক টানাপোড়েনের ঘটনাটি নিয়ে পুরো জেলায় আলোচনা চলছে।
বিষয় : টিকটকার আত্নহত্যা চুয়াডাঙ্গার খবর

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন