ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
গণবার্তা

বনশ্রীর মাদরাসার বাথরুম থেকে ১০ বছর বয়সী আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

বনশ্রীর মাদরাসার বাথরুম থেকে ১০ বছর বয়সী আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিহাব হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকে বলাৎকার করা হয়েছিল এবং অপমান ও মানসিক আঘাতেই সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

গ্রেপ্তারের বিবরণ
বেড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক মন্তাজ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রামপুরা থানার এসআই একরামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে বেড়ায় অভিযান চালায়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে টাঙ্গাইলে অবস্থান করছিল। পরে তার বাবার মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাকে বেড়ায় ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রামপুরা থানার পুলিশ তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়।

মামলা ও তদন্ত
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই একরামুল হক জানান, এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বুধবার ওই শিক্ষার্থীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকেও বলাৎকার করা হয়েছিল এবং অপমান ও মানসিক আঘাতে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনশ্রীর সি-ব্লকের ৩ নম্বর রোডে অবস্থিত আলোকিত কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বনশ্রীর মাদরাসায় ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ ও ধর্ষণের অভিযোগ দেশব্যাপী উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় সহপাঠী শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়— এত বয়সী শিশু কীভাবে বলাৎকারের শিকার হলো? কীভাবে বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল? অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ থাকায়, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


বনশ্রীর মাদরাসার বাথরুম থেকে ১০ বছর বয়সী আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, গ্রেফতার ১

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image
রাজধানীর বনশ্রীর একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিহাব হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকে বলাৎকার করা হয়েছিল এবং অপমান ও মানসিক আঘাতেই সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।গ্রেপ্তারের বিবরণবেড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক মন্তাজ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রামপুরা থানার এসআই একরামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে বেড়ায় অভিযান চালায়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে টাঙ্গাইলে অবস্থান করছিল। পরে তার বাবার মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাকে বেড়ায় ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রামপুরা থানার পুলিশ তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়।মামলা ও তদন্তমামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই একরামুল হক জানান, এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বুধবার ওই শিক্ষার্থীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকেও বলাৎকার করা হয়েছিল এবং অপমান ও মানসিক আঘাতে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাএর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনশ্রীর সি-ব্লকের ৩ নম্বর রোডে অবস্থিত আলোকিত কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।বনশ্রীর মাদরাসায় ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ ও ধর্ষণের অভিযোগ দেশব্যাপী উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের করা মামলায় সহপাঠী শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হলেও, প্রশ্ন থেকেই যায়— এত বয়সী শিশু কীভাবে বলাৎকারের শিকার হলো? কীভাবে বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল? অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ থাকায়, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা