রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা (৮) হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানাকে ঘিরে তার গ্রামের বাড়িতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টির পর এই ঘটনায় বিচার চেয়েছে তার পরিবারও। তারা বলছেন, এটাই সোহেল রানার একমাত্র অপকর্ম নয়। এর আগেও জুয়া-চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধের কারণে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। সোহেল রানার বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলায়।
এলাকাবাসী জানায়, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ কারণে পরিবারে অশান্তি দেখা দিলে প্রায় ৩ বছর আগে তার বাবা জাকের আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর সে আর গ্রামের বাড়িতে ফেরেননি।
সোহেল রানার গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুল আওয়াল বলেন, তরুণ বয়সে স্থানীয় একটি সেতুর নির্মাণ সামগ্রী চুরির মামলায় আসামি হয়ে জেলও খেটেছে সোহেল। তার বিরুদ্ধে রড চুরির একটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সে মামলায় জামিন পাওয়ার পর এলাকা ছাড়ে সোহেল।
প্রতিবেশী আব্দুল আওয়াল আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় ওর নাম ছিল শুধু রানা। পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর তার আর পড়লেখা হয়নি। তবে তরুণ বয়সে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। তখন তিনি নিজেকে এস এম রানা বলে পরিচয় দিতেন। এখন শুনছি তিনি ঢাকায় সোহেল রানা হিসেবে পরিচিত।’
সোহেল রানার একমাত্র বোন জলি বেগম বলেন, ‘বিভিন্ন অপকর্ম আর ঋণের কারণে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সে আর বাড়িতে আসেনি। বিভিন্ন জায়গায় তার ছবি দেখে আমরাও হতবাক। প্রায় ৩ বছর আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন সোহেল রানা। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রথম পক্ষের একটি সন্তান রয়েছে, তার নাম মিনহাজ। সে দাদা-দাদির কাছেই থাকে।’
সোহেল রানার বাবা জাকের আলী ও মা খদেজা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাওনি ও টিনের বেড়ার বাড়ির ভেতরে শুনশান নীরবতা। ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে মা খদেজা বেগম বলেন, ‘সব ছেলের প্রতিই বাবা-মায়ের ভালোবাসা থাকে। কিন্তু রানা যা করেছে, এরপর আর তাকে ভালোবাসা যায় না। আমরা তার বিচার চাই, শাস্তি চাই। সে খুবই খারাপ কাজ করেছে। তখন তার মাথায় যেন শয়তান ভর করেছিল।’ বাবা জাকের আলী বলেন, ‘আমার ছেলে এত খারাপ একটা কাজ করতে পারে বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কাজটা তো সে করেছে। আমি ওর বিচার চাই। আইন আদালত যে শাস্তি দেবে আমরা তা মেনে নেবো।’
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় সোহেল রানার গ্রামের বাড়ির মানুষ যেমন হতবাক, তেমনি তার নিজের পরিবারও বিচার ও শাস্তি দাবি করছে। জুয়া আসক্তি, চুরির মামলা ও ছেলেবেলা থেকেই ‘এস এম রানা’ নামে পরিচিতির ইতিহাস সোহেলের অপরাধপ্রবণ মানসিকতার চিত্র তুলে ধরে। মা-বাবার চোখের পানিও থামাতে পারেনি তাদের ছেলের নৃশংসতা। এখন আইনের কাছে সোহেলের শাস্তি হওয়াই সময়ের দাবি।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন