ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলকে সুযোগ দেওয়া যাবে না: এরদোগান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলকে সুযোগ দেওয়া যাবে না: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরায়েলকে কোনোভাবেই দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন অপরিহার্য। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান এ কথা বলেন। সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টাকে বানচাল করার চেষ্টার জন্য এ সময় তিনি ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন।

শাহবাজ শরিফকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি সঞ্চয় করে না, এমন কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’ দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং নতুন করে সংঘাত রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তুরস্কের এই নেতা।

এরদোগান জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করতে ইসরায়েল যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েল প্রশাসনের চেষ্টা আমরা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধখেকো ইসরায়েল সরকারকে আমাদের এই ভূখণ্ডকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বারবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি দুর্বল করার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে আসছেন। পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও ধারাবাহিক নিন্দা জানিয়ে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি সামরিক হামলার পর কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার পরপরই এরদোগানের এই মন্তব্য সামনে এল। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো লঙ্ঘন সম্পর্কে জানাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ স্থাপন করবে তেহরান।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর, যখন ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং ফিলিস্তিনি সংগ্রামকে সমর্থন করতে শুরু করে । এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ‘ছায়া যুদ্ধ’ চলছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি, গোয়েন্দা অভিযান ও প্রত্যক্ষ সামরিক হামলার মাধ্যমে তারা পরস্পরকে দুর্বল করার চেষ্টা করে আসছে । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ। তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কের পাশাপাশি গত সপ্তাহে উভয় দেশই একে অপরের ওপর পালটা হামলা চালিয়েছে। এতে চুক্তিটির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এরদোগানের এই সতর্কবার্তা এমন একটি সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। তুরস্ক এই অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে চায় বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগানের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। সূত্র: সামা টিভি

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করতে ইসরায়েলকে সুযোগ দেওয়া যাবে না: এরদোগান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরায়েলকে কোনোভাবেই দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন অপরিহার্য। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান এ কথা বলেন। সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টাকে বানচাল করার চেষ্টার জন্য এ সময় তিনি ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেন।শাহবাজ শরিফকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি সঞ্চয় করে না, এমন কোনো সমাধানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’ দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং নতুন করে সংঘাত রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তুরস্কের এই নেতা।এরদোগান জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নস্যাৎ করতে ইসরায়েল যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েল প্রশাসনের চেষ্টা আমরা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধখেকো ইসরায়েল সরকারকে আমাদের এই ভূখণ্ডকে আবারও বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না।’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বারবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি দুর্বল করার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে আসছেন। পাশাপাশি গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও ধারাবাহিক নিন্দা জানিয়ে আসছেন তিনি।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পালটাপালটি সামরিক হামলার পর কাতারে উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার পরপরই এরদোগানের এই মন্তব্য সামনে এল। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের যেকোনো লঙ্ঘন সম্পর্কে জানাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ স্থাপন করবে তেহরান।ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর, যখন ইরান ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং ফিলিস্তিনি সংগ্রামকে সমর্থন করতে শুরু করে । এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ‘ছায়া যুদ্ধ’ চলছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি, গোয়েন্দা অভিযান ও প্রত্যক্ষ সামরিক হামলার মাধ্যমে তারা পরস্পরকে দুর্বল করার চেষ্টা করে আসছে । সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে, যেখানে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা স্মারকে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ। তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চুক্তির ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কের পাশাপাশি গত সপ্তাহে উভয় দেশই একে অপরের ওপর পালটা হামলা চালিয়েছে। এতে চুক্তিটির স্থায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।এরদোগানের এই সতর্কবার্তা এমন একটি সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। তুরস্ক এই অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে চায় বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোগানের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। সূত্র: সামা টিভি

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা