ঢাকা    বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
গণবার্তা

স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ায়’ ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দিল স্বামী, গণধর্ষণের শিকার নারী

স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ায়’ ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দিল স্বামী, গণধর্ষণের শিকার নারী

ভারতের গুজরাটে নিজের স্ত্রীকে মানব পাচার চক্রের কাছে মাত্র ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় স্বামীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বানাসকান্থা জেলার পালানপুর ওয়েস্ট থানা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর মানব পাচার ও যৌন নিপীড়ন চক্রের হদিস পায়। উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী নারী জানান, আটকে রাখার সময় চক্রের সদস্যরা তাকে গণধর্ষণ করেছে এবং তার সোনার গহনা কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৯ মে গণেশপুরা এলাকার বাসিন্দা নিকেশ প্যাটেল পালানপুর পশ্চিম থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। অভিযোগের পর পুলিশ নিয়মিত তদন্ত শুরু করে। শুরুতে নিকেশ নিজেকে উদ্বিগ্ন স্বামী হিসেবে উপস্থাপন করে পুলিশের সহায়তা চান।

তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিকেশের বক্তব্যে অসংগতি খুঁজে পান কর্মকর্তারা। সময় ও ঘটনার বর্ণনায় একাধিক বিরোধ ধরা পড়লে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত তদারকি করছিলেন উপ-পুলিশ সুপার ডা. জিগনেশ গামিত। টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এক পর্যায়ে নিকেশ প্যাটেল ভেঙে পড়েন এবং পুরো ঘটনা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, ‘স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ায়’ তিনি বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাকে বিক্রি করে দেন।

তদন্তে জানা যায়, নিকেশ এবং তার সহযোগী সঞ্জয় ঠাকোর, অশোক ঠাকোর ও সচিন দারবার মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভ্রমণের ভান করে ওই নারীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং ৫০ হাজার রুপির বিনিময়ে তাকে ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

স্বীকারোক্তির পর পালানপুর ওয়েস্ট থানা পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আটকের স্থান চিহ্নিত করে ভুক্তভোগীকে মুক্ত করে। উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী নারী পুলিশের কাছে জানান, বন্দিদশায় চক্রের সদস্যরা তাকে ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও গণধর্ষণ করে। পাশাপাশি তার পরনের সোনার গহনা জোরপূর্বক খুলে নিয়ে পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ মানব পাচার, গণধর্ষণ, ডাকাতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করে। এই মামলায় স্বামী নিকেশ প্যাটেলসহ সঞ্জয় ঠাকোর, অশোক ঠাকোর ও সচিন দারবার মিলিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিজের স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ার অজুহাতে মাত্র ৫০ হাজার রুপিতে মানব পাচার চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া, সেখানে গণধর্ষণ ও গহনা লুটের ঘটনা নারীর প্রতি নৃশংসতার চরম উদাহরণ। স্বামী প্রথমে ‘উদ্বিগ্ন স্বামী’ সেজে পুলিশে অভিযোগ করে নিজেকে ঢাকতে চাইলেও, তদন্তের মুখে ধরা পড়ে গেছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ভুক্তভোগী নারী উদ্ধার পেলেও তার মানসিক ও শারীরিক ক্ষত সারাতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এখন দরকার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

বিষয় : ভারত গুজরাট

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ায়’ ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দিল স্বামী, গণধর্ষণের শিকার নারী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image
ভারতের গুজরাটে নিজের স্ত্রীকে মানব পাচার চক্রের কাছে মাত্র ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় স্বামীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বানাসকান্থা জেলার পালানপুর ওয়েস্ট থানা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর মানব পাচার ও যৌন নিপীড়ন চক্রের হদিস পায়। উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী নারী জানান, আটকে রাখার সময় চক্রের সদস্যরা তাকে গণধর্ষণ করেছে এবং তার সোনার গহনা কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৯ মে গণেশপুরা এলাকার বাসিন্দা নিকেশ প্যাটেল পালানপুর পশ্চিম থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। অভিযোগের পর পুলিশ নিয়মিত তদন্ত শুরু করে। শুরুতে নিকেশ নিজেকে উদ্বিগ্ন স্বামী হিসেবে উপস্থাপন করে পুলিশের সহায়তা চান।তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিকেশের বক্তব্যে অসংগতি খুঁজে পান কর্মকর্তারা। সময় ও ঘটনার বর্ণনায় একাধিক বিরোধ ধরা পড়লে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত তদারকি করছিলেন উপ-পুলিশ সুপার ডা. জিগনেশ গামিত। টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এক পর্যায়ে নিকেশ প্যাটেল ভেঙে পড়েন এবং পুরো ঘটনা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, ‘স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ায়’ তিনি বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাকে বিক্রি করে দেন।তদন্তে জানা যায়, নিকেশ এবং তার সহযোগী সঞ্জয় ঠাকোর, অশোক ঠাকোর ও সচিন দারবার মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভ্রমণের ভান করে ওই নারীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং ৫০ হাজার রুপির বিনিময়ে তাকে ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।স্বীকারোক্তির পর পালানপুর ওয়েস্ট থানা পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আটকের স্থান চিহ্নিত করে ভুক্তভোগীকে মুক্ত করে। উদ্ধারের পর ভুক্তভোগী নারী পুলিশের কাছে জানান, বন্দিদশায় চক্রের সদস্যরা তাকে ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন ও গণধর্ষণ করে। পাশাপাশি তার পরনের সোনার গহনা জোরপূর্বক খুলে নিয়ে পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।ভুক্তভোগীর জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ মানব পাচার, গণধর্ষণ, ডাকাতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করে। এই মামলায় স্বামী নিকেশ প্যাটেলসহ সঞ্জয় ঠাকোর, অশোক ঠাকোর ও সচিন দারবার মিলিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।নিজের স্ত্রীকে পছন্দ না হওয়ার অজুহাতে মাত্র ৫০ হাজার রুপিতে মানব পাচার চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া, সেখানে গণধর্ষণ ও গহনা লুটের ঘটনা নারীর প্রতি নৃশংসতার চরম উদাহরণ। স্বামী প্রথমে ‘উদ্বিগ্ন স্বামী’ সেজে পুলিশে অভিযোগ করে নিজেকে ঢাকতে চাইলেও, তদন্তের মুখে ধরা পড়ে গেছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ভুক্তভোগী নারী উদ্ধার পেলেও তার মানসিক ও শারীরিক ক্ষত সারাতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এখন দরকার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা