ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
গণবার্তা

ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি জিসানকে কুমিল্লা আমলী আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ।

ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত: শিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান কারাগারে।

ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত: শিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান কারাগারে।
ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধান। আজ তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত (ভ্রূণ নষ্ট) করানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে কুমিল্লার ৩ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে সকালে জিসান সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেয়। আদালত প্রাঙ্গণে আসামির জামিন আবেদন করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তা নাকচ করে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন

পুলিশ ও মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় জিসান মিয়া প্রধানের। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে জিসান ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তার ওপর চড়াও হন এবং নানা ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত (ভ্রূণ নষ্ট) করাতে বাধ্য করেন। গর্ভপাতের পর ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং রাতারাতি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।লাকসামে উদ্ধার ও নাটকীয় গ্রেফতারদীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর, গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসান মিয়াকে রহস্যজনকভাবে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।উদ্ধারের পর থেকে জিসান মিয়াকে কঠোর পুলিশ পাহারায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছিল। আজ সকালে চিকিৎসকরা তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে যায়।আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতিমামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে আনা প্রাথমিক অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার বাকি তিন আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর আজ বিকেলেই তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত: শিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান কারাগারে।

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image
ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত (ভ্রূণ নষ্ট) করানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে কুমিল্লার ৩ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে সকালে জিসান সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেয়। আদালত প্রাঙ্গণে আসামির জামিন আবেদন করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তা নাকচ করে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেনপুলিশ ও মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ওই বিধবা নারীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় জিসান মিয়া প্রধানের। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে জিসান ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তার ওপর চড়াও হন এবং নানা ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত (ভ্রূণ নষ্ট) করাতে বাধ্য করেন। গর্ভপাতের পর ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং রাতারাতি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।লাকসামে উদ্ধার ও নাটকীয় গ্রেফতারদীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর, গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসান মিয়াকে রহস্যজনকভাবে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।উদ্ধারের পর থেকে জিসান মিয়াকে কঠোর পুলিশ পাহারায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছিল। আজ সকালে চিকিৎসকরা তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে নিয়ে যায়।আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতিমামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে আনা প্রাথমিক অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার বাকি তিন আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর আজ বিকেলেই তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা