ঢাকা    শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
গণবার্তা

শান্তি চুক্তির জন্য ট্রাম্পের ছিল মরিয়া চেষ্টাঃমোজতবা খামেনি

শান্তি চুক্তির জন্য ট্রাম্পের ছিল মরিয়া চেষ্টাঃমোজতবা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য ইরানি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন। বৃহস্পতিবার এক বার্তায় খামেনি বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় ইরানি জাতি, আপনারা জানেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের কর্মকর্তারা অত্যন্ত সদিচ্ছার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে নানা কৌশল ব্যবহার করেছেন।’ এই চুক্তিতে সব ক্ষেত্রে শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্তও এতে রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোজতবা আলী খামেনি জানান, শুরুতে এই চুক্তির ব্যাপারে তার ভিন্নমত ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে তিনি এই চুক্তির অনুমতি দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান কথা দিয়েছেন, তাঁরা ইরানি জাতি ও প্রতিরোধের অধিকার রক্ষা করবেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবেন না বলেও জানিয়েছেন। খামেনি বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে আমরা সবাই মিলে এসব শর্ত পূরণের জন্য অপেক্ষা করব। ভবিষ্যতে সরাসরি যে আলোচনা হবে, তার অর্থ এই নয়, আমরা শত্রুর সব কথা মেনে নেব।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ইমাম মাহদীর আশীর্বাদ ও প্রার্থনা ইরানি জাতির জন্য নতুন বিজয় বয়ে আনবে।

খামেনির এই বক্তব্য ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের চুক্তির প্রতি সমর্থন এবং একই সঙ্গে সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিক, কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ‘অতিরিক্ত দাবি’ মেনে নেবেন না। এদিকে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই মন্তব্যের পর চুক্তি বাস্তবায়নে নতুন করে জটিলতা তৈরি হবে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। খামেনি চুক্তির বৈধতা স্বীকার করলেও আলোচনার পরিধি নিয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন। ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা চুক্তির সব শর্ত পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অতিরিক্ত দাবি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চুক্তি একটি শুরু, কিন্তু এর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে আমরা সজাগ থাকব।’ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই বক্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরলেও চুক্তি বাস্তবায়নে তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চুক্তি নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে, যার নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


শান্তি চুক্তির জন্য ট্রাম্পের ছিল মরিয়া চেষ্টাঃমোজতবা খামেনি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য ইরানি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করেছেন। বৃহস্পতিবার এক বার্তায় খামেনি বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় ইরানি জাতি, আপনারা জানেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের কর্মকর্তারা অত্যন্ত সদিচ্ছার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে নানা কৌশল ব্যবহার করেছেন।’ এই চুক্তিতে সব ক্ষেত্রে শত্রুতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার শর্তও এতে রয়েছে। এ ছাড়া ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।মোজতবা আলী খামেনি জানান, শুরুতে এই চুক্তির ব্যাপারে তার ভিন্নমত ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে তিনি এই চুক্তির অনুমতি দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান কথা দিয়েছেন, তাঁরা ইরানি জাতি ও প্রতিরোধের অধিকার রক্ষা করবেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অতিরিক্ত দাবি মেনে নেবেন না বলেও জানিয়েছেন। খামেনি বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে আমরা সবাই মিলে এসব শর্ত পূরণের জন্য অপেক্ষা করব। ভবিষ্যতে সরাসরি যে আলোচনা হবে, তার অর্থ এই নয়, আমরা শত্রুর সব কথা মেনে নেব।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ইমাম মাহদীর আশীর্বাদ ও প্রার্থনা ইরানি জাতির জন্য নতুন বিজয় বয়ে আনবে।খামেনির এই বক্তব্য ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের চুক্তির প্রতি সমর্থন এবং একই সঙ্গে সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, চুক্তি বাস্তবায়নে ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিক, কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ‘অতিরিক্ত দাবি’ মেনে নেবেন না। এদিকে চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই মন্তব্যের পর চুক্তি বাস্তবায়নে নতুন করে জটিলতা তৈরি হবে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। খামেনি চুক্তির বৈধতা স্বীকার করলেও আলোচনার পরিধি নিয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন। ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা চুক্তির সব শর্ত পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অতিরিক্ত দাবি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চুক্তি একটি শুরু, কিন্তু এর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে আমরা সজাগ থাকব।’ আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই বক্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরলেও চুক্তি বাস্তবায়নে তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চুক্তি নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে, যার নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা