ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
গণবার্তা

গাইবান্ধায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল রেস্তোরাঁ

গাইবান্ধায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল রেস্তোরাঁ

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় একটি রেস্তোরাঁর ভেতরে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই রেস্তোরাঁর কর্মচারী আমির হোসেনকে (৪০) আটক করে থানা পুলিশকে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা রেস্তোরাঁটি ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের কিশামত বালুয়া গ্রামের ভেরামারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ‘জাফলং চাইনিজ ফাস্টফুড অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়’ এ ঘটনা ঘটে। আটক আমির হোসেন একই উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের জয়নুল আবেদিনের ছেলে এবং ওই রেস্তোরাঁর কর্মচারী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ভেরামারা রেলওয়ে ব্রিজের নীচে বড় বড় পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ পানির স্রোত দেখতে বিকেলের পর বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল নামে। এই দর্শনার্থীদের পুঁজি করে এই পল্লীতে গড়ে রেস্তুরেন্ট। এ কারণে সারাদিন জনশূন্য থাকে ওই এলাকা ও রেস্তুরেন্ট। এই সুযোগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কর্মচারী আমির হোসেন ৬ বছরের এক শিশুকে ফুসলিয়ে ওই রেস্তোরাঁর ভেতরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা রেস্তোরাঁটি ঘিরে ফেলে তাকে আটক করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে আমির হোসেনকে গ্রামবাসী পুলিশে সোপর্দ করে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা রেস্তোরাঁটি ভাঙচুর করে আগুন ধরে দেয়। পুড়ে যায় রেস্তোরাঁটি।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত আমির হোসেনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওসি আরও জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। রেস্তোরাঁটির মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। শিশুটি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অন্যান্য এলাকার মানুষেরও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


গাইবান্ধায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল রেস্তোরাঁ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় একটি রেস্তোরাঁর ভেতরে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই রেস্তোরাঁর কর্মচারী আমির হোসেনকে (৪০) আটক করে থানা পুলিশকে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা রেস্তোরাঁটি ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের কিশামত বালুয়া গ্রামের ভেরামারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ‘জাফলং চাইনিজ ফাস্টফুড অ্যান্ড রেস্তোরাঁয়’ এ ঘটনা ঘটে। আটক আমির হোসেন একই উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের জয়নুল আবেদিনের ছেলে এবং ওই রেস্তোরাঁর কর্মচারী।পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ভেরামারা রেলওয়ে ব্রিজের নীচে বড় বড় পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ পানির স্রোত দেখতে বিকেলের পর বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল নামে। এই দর্শনার্থীদের পুঁজি করে এই পল্লীতে গড়ে রেস্তুরেন্ট। এ কারণে সারাদিন জনশূন্য থাকে ওই এলাকা ও রেস্তুরেন্ট। এই সুযোগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে কর্মচারী আমির হোসেন ৬ বছরের এক শিশুকে ফুসলিয়ে ওই রেস্তোরাঁর ভেতরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা রেস্তোরাঁটি ঘিরে ফেলে তাকে আটক করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে আমির হোসেনকে গ্রামবাসী পুলিশে সোপর্দ করে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা রেস্তোরাঁটি ভাঙচুর করে আগুন ধরে দেয়। পুড়ে যায় রেস্তোরাঁটি।গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত আমির হোসেনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওসি আরও জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। রেস্তোরাঁটির মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। শিশুটি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অন্যান্য এলাকার মানুষেরও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বলে জানিয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা