ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) নতুন মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন দলটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। অন্যদিকে ২০০৮ সাল থেকে টানা ১৬ বছর ধরে মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদকে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে। শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সমন্বয়ক কে এম শরীয়তুল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ইসলামী আন্দোলনের মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিবেশনে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে এই রদবদল আনা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে দলটির বেশ কিছু সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এককভাবে নির্বাচন করা, সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যর্থতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়গুলো দলের নীতি-নির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে নতুন গতি দিতেই মেয়াদের আগে কমিটি ভেঙে নেতৃত্বে এই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান এর আগে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে মাঠপর্যায়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যদিকে বিদায়ী মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ দীর্ঘ সময় ধরে দলটির অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন এই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, অধিবেশনে আগামী সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা দলকে আরও সংগঠিত ও জনমুখী করার চেষ্টা করবো। বিশেষ করে তরুণ ও নারী নেতৃত্বকে সামনে এনে দলকে শক্তিশালী করা হবে।’ বিদায়ী মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘গত ১৬ বছর আমি দলের সেবা করতে পেরে আনন্দিত। এখন দল নতুন নেতৃত্বে আরও এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে। তবে এত বড় সময় ধরে এক নেতার দায়িত্ব পালনের পর এবারই প্রথম কাঠামোগত এই বদল ঘটলো। আগামী ডিসেম্বরে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও সংগঠনের শক্তিশালীকরণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কমিটি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কাজ শুরু করবে এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সময়োপযোগী করা হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব পরিবর্তনকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন কীভাবে তাদের অবস্থান তৈরি করে, তা পর্যবেক্ষণ করবে রাজনৈতিক মহল।
আপনার মতামত লিখুন