ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪০ রানে অলআউট বাংলাদেশ, টেস্টে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে টাইগাররা

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪০ রানে অলআউট বাংলাদেশ, টেস্টে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে টাইগাররা

হারারেতে চলমান একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৪৩.২ ওভারে অলআউট হয় টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের পেসারদের গতি ও বাউন্সের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়েন এবং কেউ কেউ উইকেট উপহার হিসেবে দিয়ে আসেন। হারারেতে বাউন্স আর গতিতে তাদের অস্বস্তিটা স্পষ্টই ছিল। এখান থেকে এই টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বোলারদের দুর্দান্ত কিছু করতে হবে।

বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন মুমিনুল হক, যিনি ৮১ বল খেলে ৮টি চারে সাজানো ইনিংস খেলেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৮তম ফিফটি। তবে আরেকটি সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। নায়ামুরির বাউন্সার তাঁর ব্যাটে লেগে স্লিপে দাঁড়ানো ক্রেইগ আরভিনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৯ রান করেন। অভিষিক্ত তাওহিদ হৃদয় ১৬ বলে মাত্র ৩ রান করেন, অমিত হাসান ১৫ বলে ৪ রান করেন। মুশফিকুর রহিম ২১ বলে ৯ রানে বোল্ড হন। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৭, লিটন দাস ১১, শেখ মেহেদী ২ এবং হাসান মাহমুদ অপরাজিত থাকেন ০ রানে। জিম্বাবুয়ের পেসার এনগারাভা ৩টি, নায়ামুরি ২টি, ব্রাড ইভান্স ও মাজাকাদজা একটি করে উইকেট নেন।

প্রথম ২০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১২৫/৫। এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে এনগারাভা সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ৯.২ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। নায়ামুরি ৩৬ রানে ২ উইকেট নেন। জিম্বাবুয়ের বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। ৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর ৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন নাজমুল ও মুমিনুল। কিন্তু সেই জুটির পর আর কোনো জুটি বড় হয়নি। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা মোটেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।

এদিকে বাংলাদেশের মেয়েরা আজ নারী টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছে। আগে ব্যাট করে পুরো ২০ ওভার খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান করেছে নিগার সুলতানারা। আজ জিততে পারলে সেমিফাইনালের সম্ভাবনাও আছে। তবে পুরুষ দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের জন্য বড় ধাক্কা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্ট জয়ের লক্ষ্যে বোলারদের এখন কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। জিম্বাবুয়ের ইনিংস কেমন হয়, তার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ফলাফল। বাংলাদেশের বোলারদের বাউন্সি উইকেটে নিজেদের সেরা বোলিং করতে হবে। বিশেষ করে পেসারদের ভালো করতে হবে, কারণ জিম্বাবুয়ের পেসাররা ইতিমধ্যে তাদের কাজ করে দিয়েছে। উইকেটে বাড়তি বাউন্স থাকায় বাংলাদেশের পেসারদেরও সুবিধা হতে পারে। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বোলারদের ওপর চাপ বাড়বে। এখন দেখার বিষয়, জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে কত রান করে এবং বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, টাইগাররা বোলিংয়ে ভালো করবে এবং ম্যাচে ফিরবে। যদিও ব্যাটিং লাইনআপের এই ব্যর্থতা আগামী ম্যাচগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে এই ধরনের ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের জন্য উদ্বেগজনক। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংস দিয়ে সবকিছু নির্ধারিত হয় না। যদি বাংলাদেশের বোলাররা জিম্বাবুয়েকে কম রানে আটকাতে পারে, তাহলে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ফিরে আসার জন্য ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবে। হারারেতে এই টেস্টটি এখন জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪০ রানে অলআউট বাংলাদেশ, টেস্টে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে টাইগাররা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
হারারেতে চলমান একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৪৩.২ ওভারে অলআউট হয় টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের পেসারদের গতি ও বাউন্সের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়েন এবং কেউ কেউ উইকেট উপহার হিসেবে দিয়ে আসেন। হারারেতে বাউন্স আর গতিতে তাদের অস্বস্তিটা স্পষ্টই ছিল। এখান থেকে এই টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বোলারদের দুর্দান্ত কিছু করতে হবে।বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন মুমিনুল হক, যিনি ৮১ বল খেলে ৮টি চারে সাজানো ইনিংস খেলেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৮তম ফিফটি। তবে আরেকটি সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। নায়ামুরির বাউন্সার তাঁর ব্যাটে লেগে স্লিপে দাঁড়ানো ক্রেইগ আরভিনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৯ রান করেন। অভিষিক্ত তাওহিদ হৃদয় ১৬ বলে মাত্র ৩ রান করেন, অমিত হাসান ১৫ বলে ৪ রান করেন। মুশফিকুর রহিম ২১ বলে ৯ রানে বোল্ড হন। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৭, লিটন দাস ১১, শেখ মেহেদী ২ এবং হাসান মাহমুদ অপরাজিত থাকেন ০ রানে। জিম্বাবুয়ের পেসার এনগারাভা ৩টি, নায়ামুরি ২টি, ব্রাড ইভান্স ও মাজাকাদজা একটি করে উইকেট নেন।প্রথম ২০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১২৫/৫। এরপর আর কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে এনগারাভা সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ৯.২ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। নায়ামুরি ৩৬ রানে ২ উইকেট নেন। জিম্বাবুয়ের বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। ৩ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর ৩৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন নাজমুল ও মুমিনুল। কিন্তু সেই জুটির পর আর কোনো জুটি বড় হয়নি। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা মোটেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।এদিকে বাংলাদেশের মেয়েরা আজ নারী টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছে। আগে ব্যাট করে পুরো ২০ ওভার খেলে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান করেছে নিগার সুলতানারা। আজ জিততে পারলে সেমিফাইনালের সম্ভাবনাও আছে। তবে পুরুষ দলের এই ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের জন্য বড় ধাক্কা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্ট জয়ের লক্ষ্যে বোলারদের এখন কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। জিম্বাবুয়ের ইনিংস কেমন হয়, তার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ফলাফল। বাংলাদেশের বোলারদের বাউন্সি উইকেটে নিজেদের সেরা বোলিং করতে হবে। বিশেষ করে পেসারদের ভালো করতে হবে, কারণ জিম্বাবুয়ের পেসাররা ইতিমধ্যে তাদের কাজ করে দিয়েছে। উইকেটে বাড়তি বাউন্স থাকায় বাংলাদেশের পেসারদেরও সুবিধা হতে পারে। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বোলারদের ওপর চাপ বাড়বে। এখন দেখার বিষয়, জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে কত রান করে এবং বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন, টাইগাররা বোলিংয়ে ভালো করবে এবং ম্যাচে ফিরবে। যদিও ব্যাটিং লাইনআপের এই ব্যর্থতা আগামী ম্যাচগুলোর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে এই ধরনের ব্যাটিং ব্যর্থতা দলের জন্য উদ্বেগজনক। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংস দিয়ে সবকিছু নির্ধারিত হয় না। যদি বাংলাদেশের বোলাররা জিম্বাবুয়েকে কম রানে আটকাতে পারে, তাহলে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ফিরে আসার জন্য ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবে। হারারেতে এই টেস্টটি এখন জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা