ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

৬৪ বছর ধরে রেকর্ড ১৭টি বিশ্বকাপ কাভার করে মিনি বিশ্বকাপ জার্মান সাংবাদিক

৬৪ বছর ধরে রেকর্ড ১৭টি বিশ্বকাপ কাভার করে মিনি বিশ্বকাপ জার্মান সাংবাদিক

টানা ৬৪ বছর ধরে ১৭টি ফুটবল বিশ্বকাপ কাভার করে রেকর্ড গড়েছেন ৮৮ বছর বয়সী জার্মান ক্রীড়া সাংবাদিক হার্টমুট শ্যারজার। এই গৌরবময় যাত্রাকে সম্মান জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। শুক্রবার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে জার্মানি বনাম ইকুয়েডর ম্যাচের আগে শ্যারজারকে ‘মিনি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’ উপহার দেয় সংস্থাটি। মাঠের তারকাদের বাইরে একজন সাংবাদিককে এমন সম্মাননা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ফিফা।

১৯৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করা এই প্রবীণ সাংবাদিক ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ইতালির ক্রীড়াভিত্তিক জার্নাল ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্টস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্যারজার জানান, বয়সের কারণে তার মনে হয়েছিল ২০১৮ বিশ্বকাপই তার শেষ বিশ্বকাপ কাভার। কিন্তু মনের জোরে পরের বিশ্বকাপগুলোর প্রেস বক্সেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেশাগত জীবনে নিজ দেশ জার্মানিকে তিনবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে দেখেছেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শ্যারজার জানান, তাঁর দেখা সেরা দুটি বিশ্বকাপ হলো ১৯৭৪-এর ঘরের মাঠ জার্মানি এবং ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ। অন্যদিকে, লজিস্টিক ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনার দিক থেকে তাঁর কাছে সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা ছিল ২০০২ সালের জাপান ও কোরিয়ার আসর।

পেলে ও ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে হালের লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—সকল ফুটবল কিংবদন্তির খেলা প্রেস বক্সে বসে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে শ্যারজারের। তার মতে, পেলেই সর্বকালের সেরা। তিনি বলেন, ‘পেলে ছিলেন অনন্য। তার ড্রিবলিং, পাসিং ও গোল করার দক্ষতা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। ম্যারাডোনা ছিলেন দুর্দান্ত, কিন্তু পেলেই সেরা।’

শ্যারজারের এই অভূতপূর্ব কৃতিত্ব ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘হার্টমুট শ্যারজার ফুটবল সাংবাদিকতার একটি জীবন্ত কিংবদন্তি। তার নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব সবার জন্য অনুপ্রেরণা।’ জার্মান ফুটবল ফেডারেশনও তার এই কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শ্যারজার জার্মান সাংবাদিকতার জন্য গর্বের বিষয়।’ অনুষ্ঠানে ট্রফি গ্রহণের সময় শ্যারজার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ১৯৬২ সালে চিলিতে প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করতে যাই, তখন কখনো ভাবিনি যে ৬৪ বছর পরও আমি এই কাজ চালিয়ে যাব। ফুটবল আমার জীবন, আর এই স্বীকৃতি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

আরও একটি বিশ্বকাপ কাভার করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যদি স্বাস্থ্য অনুমতি দেয়, তাহলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপও কাভার করতে চাই। তখন আমার বয়স হবে ৯২ বছর।’ তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে এমন দীর্ঘমেয়াদি কাভারেজ বিরল। হার্টমুট শ্যারজারের নাম এখন ফুটবল সাংবাদিকতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ফিফার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তারা বলেছেন, এটি পেশাদার সাংবাদিকতার প্রতি সম্মান জানানোর একটি অসাধারণ উদাহরণ। শ্যারজারের এই কীর্তি আগামী দিনে আরও অনেক তরুণ সাংবাদিককে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


৬৪ বছর ধরে রেকর্ড ১৭টি বিশ্বকাপ কাভার করে মিনি বিশ্বকাপ জার্মান সাংবাদিক

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
টানা ৬৪ বছর ধরে ১৭টি ফুটবল বিশ্বকাপ কাভার করে রেকর্ড গড়েছেন ৮৮ বছর বয়সী জার্মান ক্রীড়া সাংবাদিক হার্টমুট শ্যারজার। এই গৌরবময় যাত্রাকে সম্মান জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। শুক্রবার নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে জার্মানি বনাম ইকুয়েডর ম্যাচের আগে শ্যারজারকে ‘মিনি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’ উপহার দেয় সংস্থাটি। মাঠের তারকাদের বাইরে একজন সাংবাদিককে এমন সম্মাননা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ফিফা।১৯৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করা এই প্রবীণ সাংবাদিক ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। ইতালির ক্রীড়াভিত্তিক জার্নাল ‘লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্টস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্যারজার জানান, বয়সের কারণে তার মনে হয়েছিল ২০১৮ বিশ্বকাপই তার শেষ বিশ্বকাপ কাভার। কিন্তু মনের জোরে পরের বিশ্বকাপগুলোর প্রেস বক্সেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেশাগত জীবনে নিজ দেশ জার্মানিকে তিনবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে দেখেছেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শ্যারজার জানান, তাঁর দেখা সেরা দুটি বিশ্বকাপ হলো ১৯৭৪-এর ঘরের মাঠ জার্মানি এবং ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপ। অন্যদিকে, লজিস্টিক ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনার দিক থেকে তাঁর কাছে সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা ছিল ২০০২ সালের জাপান ও কোরিয়ার আসর।পেলে ও ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে হালের লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—সকল ফুটবল কিংবদন্তির খেলা প্রেস বক্সে বসে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে শ্যারজারের। তার মতে, পেলেই সর্বকালের সেরা। তিনি বলেন, ‘পেলে ছিলেন অনন্য। তার ড্রিবলিং, পাসিং ও গোল করার দক্ষতা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। ম্যারাডোনা ছিলেন দুর্দান্ত, কিন্তু পেলেই সেরা।’শ্যারজারের এই অভূতপূর্ব কৃতিত্ব ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘হার্টমুট শ্যারজার ফুটবল সাংবাদিকতার একটি জীবন্ত কিংবদন্তি। তার নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব সবার জন্য অনুপ্রেরণা।’ জার্মান ফুটবল ফেডারেশনও তার এই কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শ্যারজার জার্মান সাংবাদিকতার জন্য গর্বের বিষয়।’ অনুষ্ঠানে ট্রফি গ্রহণের সময় শ্যারজার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ১৯৬২ সালে চিলিতে প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করতে যাই, তখন কখনো ভাবিনি যে ৬৪ বছর পরও আমি এই কাজ চালিয়ে যাব। ফুটবল আমার জীবন, আর এই স্বীকৃতি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’আরও একটি বিশ্বকাপ কাভার করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যদি স্বাস্থ্য অনুমতি দেয়, তাহলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপও কাভার করতে চাই। তখন আমার বয়স হবে ৯২ বছর।’ তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে এমন দীর্ঘমেয়াদি কাভারেজ বিরল। হার্টমুট শ্যারজারের নাম এখন ফুটবল সাংবাদিকতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ফিফার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তারা বলেছেন, এটি পেশাদার সাংবাদিকতার প্রতি সম্মান জানানোর একটি অসাধারণ উদাহরণ। শ্যারজারের এই কীর্তি আগামী দিনে আরও অনেক তরুণ সাংবাদিককে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা