ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

জামালপুরে ‘বন্য হাতির আক্রমণে’ শ্রমিকের মৃত্যু

জামালপুরে ‘বন্য হাতির আক্রমণে’ শ্রমিকের মৃত্যু
ছবিঃ সংগৃহীত

জামালপুরের বকশিগঞ্জে ‘বন্য হাতির আক্রমণে’ জয়নাল আবেদীন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার সোমনাথপাড়া এলাকার ডুমুরতলা বিটের বাগিচাটিলা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জয়নাল আবেদীন বকশিগঞ্জের কামালপুর ইউনিয়নের মৃধাপাড়া এলাকার প্রয়াত অনিস মিয়ার ছেলে।

বন বিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার বালিজুরী রেঞ্জের ডুমুরতলা বিটের সংরক্ষিত বনভূমিতে লাকড়ি সংগ্রহে যান জয়নাল। ১০৮৮ ও ১০৮৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর এলাকায় যাওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেননি। শনিবার সকালে ডুমুরতলা বিটের কর্মকর্তাদের তাঁর নিখোঁজের খবর জানান স্বজনরা। এরপর বনবিভাগ এবং দিঘলকোনা, সোমনাথপাড়া, সাতানীপাড়া ও গারামারা এলাকার চারটি ইআরটি দলের সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি করে। একপর্যায়ে দুপুরে বাগিচাটিলা নামক সংরক্ষিত বনভূমি এলাকা থেকে জয়নালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ময়মনসিংহ বন বিভাগ বালিজুরী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া জানান, জয়নাল আবেদীনের নিখোঁজের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান শুরু হয়। বাগিচাটিলা নামক সংরক্ষিত বনভূমি এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়। দেখে ধারণা করা হচ্ছে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে হাতির আক্রমণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বন্য হাতির দল প্রায়ই সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে আসছে এবং ফসলের ক্ষতি করছে। এর আগেও কয়েকবার হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ বলছে, হাতি নিরাপত্তার জন্য এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হাতির দলকে বনাঞ্চলে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জয়নাল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বন্য হাতির হামলা রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে গত কয়েক মাসে জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসায় তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসছে। এ সমস্যা সমাধানে বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও হাতির চলাচলের পথ নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। জয়নাল আবেদীনের মৃত্যু আবারও বন্য প্রাণী ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনাঞ্চল উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাতির আচরণে পরিবর্তন আসছে, যা মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়াচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বন বিভাগ জানিয়েছে, হাতির আক্রমণ রোধে ইলেকট্রিক বেড়া ও সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলমান। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জয়নাল আবেদীনের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য বন বিভাগ ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


জামালপুরে ‘বন্য হাতির আক্রমণে’ শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
জামালপুরের বকশিগঞ্জে ‘বন্য হাতির আক্রমণে’ জয়নাল আবেদীন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার সোমনাথপাড়া এলাকার ডুমুরতলা বিটের বাগিচাটিলা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জয়নাল আবেদীন বকশিগঞ্জের কামালপুর ইউনিয়নের মৃধাপাড়া এলাকার প্রয়াত অনিস মিয়ার ছেলে।বন বিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার বালিজুরী রেঞ্জের ডুমুরতলা বিটের সংরক্ষিত বনভূমিতে লাকড়ি সংগ্রহে যান জয়নাল। ১০৮৮ ও ১০৮৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর এলাকায় যাওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেননি। শনিবার সকালে ডুমুরতলা বিটের কর্মকর্তাদের তাঁর নিখোঁজের খবর জানান স্বজনরা। এরপর বনবিভাগ এবং দিঘলকোনা, সোমনাথপাড়া, সাতানীপাড়া ও গারামারা এলাকার চারটি ইআরটি দলের সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি করে। একপর্যায়ে দুপুরে বাগিচাটিলা নামক সংরক্ষিত বনভূমি এলাকা থেকে জয়নালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ময়মনসিংহ বন বিভাগ বালিজুরী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া জানান, জয়নাল আবেদীনের নিখোঁজের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান শুরু হয়। বাগিচাটিলা নামক সংরক্ষিত বনভূমি এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়। দেখে ধারণা করা হচ্ছে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে হাতির আক্রমণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বন্য হাতির দল প্রায়ই সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে আসছে এবং ফসলের ক্ষতি করছে। এর আগেও কয়েকবার হাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ বলছে, হাতি নিরাপত্তার জন্য এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হাতির দলকে বনাঞ্চলে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, জয়নাল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বন্য হাতির হামলা রোধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে গত কয়েক মাসে জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসায় তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসছে। এ সমস্যা সমাধানে বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও হাতির চলাচলের পথ নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা দাবি করছেন, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। জয়নাল আবেদীনের মৃত্যু আবারও বন্য প্রাণী ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বনাঞ্চল উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হাতির আচরণে পরিবর্তন আসছে, যা মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়াচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বন বিভাগ জানিয়েছে, হাতির আক্রমণ রোধে ইলেকট্রিক বেড়া ও সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলমান। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। জয়নাল আবেদীনের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য বন বিভাগ ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা