ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

গাজায় ভারতের ‘নীরবতা’ নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা, বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ

গাজায় ভারতের ‘নীরবতা’ নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা, বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। তবে তাঁর এই সমালোচনাকে ‘ভোটব্যাংকের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শনিবার ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, গাজা ইস্যুতে নয়াদিল্লির নীরবতা নৈতিক ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বর্তমান সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দাবি করেন তিনি।

সোনিয়া তাঁর নিবন্ধে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয় উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য দিয়ে তিনি লিখেছেন, সংঘাতে অন্তত ২০ হাজার শিশু নিহত এবং ৪৪ হাজার আহত হয়েছে। গাজার ৯৭ শতাংশ বিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, হামাসের ২০২৩ সালের হামলা ছিল ‘ভয়াবহ ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। তবে এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ‘নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার’ পরিচয় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কারণে ইসরায়েল এ অভিযান চালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও দাবি করেন।

নিবন্ধে সোনিয়া আরও লেখেন, বিশ্বের অনেক দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ভারত এ বিষয়ে ‘একমাত্র নীরব কণ্ঠে’ পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মোদি সরকারের এই নীরবতা নৈতিকভাবে যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি জাতীয় স্বার্থের দিক থেকেও ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে কংগ্রেস নেত্রীর এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, কংগ্রেস পররাষ্ট্রনীতিকেও ভোটব্যাংকের রাজনীতির দৃষ্টিতে দেখে। তাঁর দাবি, গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বহুবার স্পষ্ট করা হয়েছে। পুনাওয়ালা বলেন, ভারত জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবে ভোট দিয়েছে এবং গাজায় মানবিক সহায়তাও পাঠিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বিজেপির এই নেতা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস গাজার মুসলমানদের নিয়ে কথা বললেও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়ে নীরব থাকে। তাঁর ভাষায়, কংগ্রেসের কাছে পররাষ্ট্রনীতিও ভোটব্যাংকের রাজনৈতিক হিসাবের বাইরে নয়। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটির প্রায় পুরোটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ সংঘাতকে ঘিরে ভারতীয় রাজনীতিতেও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য নতুন করে সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনিয়া গান্ধীর এই নিবন্ধ কংগ্রেসের বিদেশনীতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা সরকারের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। অন্যদিকে বিজেপি এই সমালোচনাকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে উড়িয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কংগ্রেসের অনেক নেতা সোনিয়া গান্ধীর এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে দলের কয়েকজন নেতা এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। দলের ভেতরে বিদেশনীতি নিয়ে একমত নেই বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে মুখপাত্রের বক্তব্যেই দলটির অবস্থান স্পষ্ট। আগামী দিনে গাজা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান আবারও সংসদে আলোচিত হতে পারে এবং বিরোধী দল এ বিষয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোনিয়া গান্ধী তাঁর নিবন্ধে ভারতের ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ভারতের বৈদেশিক সম্পর্কের স্বার্থে নয়। আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুটি ভোটারদের মনকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিতর্কে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


গাজায় ভারতের ‘নীরবতা’ নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা, বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী। তবে তাঁর এই সমালোচনাকে ‘ভোটব্যাংকের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শনিবার ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, গাজা ইস্যুতে নয়াদিল্লির নীরবতা নৈতিক ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে বর্তমান সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দাবি করেন তিনি।সোনিয়া তাঁর নিবন্ধে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয় উল্লেখ করেন। ওই প্রতিবেদনে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য দিয়ে তিনি লিখেছেন, সংঘাতে অন্তত ২০ হাজার শিশু নিহত এবং ৪৪ হাজার আহত হয়েছে। গাজার ৯৭ শতাংশ বিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, হামাসের ২০২৩ সালের হামলা ছিল ‘ভয়াবহ ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। তবে এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ‘নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার’ পরিচয় দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কারণে ইসরায়েল এ অভিযান চালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও দাবি করেন।নিবন্ধে সোনিয়া আরও লেখেন, বিশ্বের অনেক দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ভারত এ বিষয়ে ‘একমাত্র নীরব কণ্ঠে’ পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মোদি সরকারের এই নীরবতা নৈতিকভাবে যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি জাতীয় স্বার্থের দিক থেকেও ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে কংগ্রেস নেত্রীর এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, কংগ্রেস পররাষ্ট্রনীতিকেও ভোটব্যাংকের রাজনীতির দৃষ্টিতে দেখে। তাঁর দাবি, গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বহুবার স্পষ্ট করা হয়েছে। পুনাওয়ালা বলেন, ভারত জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবে ভোট দিয়েছে এবং গাজায় মানবিক সহায়তাও পাঠিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।বিজেপির এই নেতা অভিযোগ করেন, কংগ্রেস গাজার মুসলমানদের নিয়ে কথা বললেও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়ে নীরব থাকে। তাঁর ভাষায়, কংগ্রেসের কাছে পররাষ্ট্রনীতিও ভোটব্যাংকের রাজনৈতিক হিসাবের বাইরে নয়। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটির প্রায় পুরোটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ সংঘাতকে ঘিরে ভারতীয় রাজনীতিতেও সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য নতুন করে সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনিয়া গান্ধীর এই নিবন্ধ কংগ্রেসের বিদেশনীতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, যা সরকারের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। অন্যদিকে বিজেপি এই সমালোচনাকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে উড়িয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কংগ্রেসের অনেক নেতা সোনিয়া গান্ধীর এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে দলের কয়েকজন নেতা এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। দলের ভেতরে বিদেশনীতি নিয়ে একমত নেই বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে মুখপাত্রের বক্তব্যেই দলটির অবস্থান স্পষ্ট। আগামী দিনে গাজা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান আবারও সংসদে আলোচিত হতে পারে এবং বিরোধী দল এ বিষয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোনিয়া গান্ধী তাঁর নিবন্ধে ভারতের ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি ভারতের বৈদেশিক সম্পর্কের স্বার্থে নয়। আগামী নির্বাচনে এই ইস্যুটি ভোটারদের মনকে প্রভাবিত করতে পারে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিতর্কে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা