ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
গণবার্তা

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এর পাশাপাশি মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। শনিবার রাত পৌনে ৯টায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, সকাল ৭টায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় টাকাগুলো গণনা শুরু হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর রাত পৌনে ৯টায় গণনা শেষ হয়। এসব বস্তাভর্তি টাকা গণনার কাজে অংশ নেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৫৯০ জন মানুষ।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। মসজিদটিতে এবার আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৪০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর, তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হলে সেখান থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারের ১৫ কোটি টাকা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ কোটি টাকা বেশি। পাগলা মসজিদের ইতিহাস বেশ পুরনো। জনশ্রুতি আছে, এখানে মানত করলে তা পূর্ণ হয়। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে মানতের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। এই মসজিদের দানবাক্সগুলোর প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর খোলা হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের সংগ্রহকৃত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘এটি হবে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স। ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্যও নানা সুবিধা থাকবে।’ পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, দানবাক্সের টাকার হিসাব সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টাকা গণনার সময় ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পাগলা মসজিদের অর্থ দিয়ে সমাজের উন্নয়নে কাজ করায় তাদের আস্থা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ হলে এটি কিশোরগঞ্জের জন্য আরও একটি গর্বের বিষয় হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এর পাশাপাশি মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। শনিবার রাত পৌনে ৯টায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, সকাল ৭টায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে মসজিদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় টাকাগুলো গণনা শুরু হয়। প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর রাত পৌনে ৯টায় গণনা শেষ হয়। এসব বস্তাভর্তি টাকা গণনার কাজে অংশ নেন মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পাশের জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৫৯০ জন মানুষ।মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। মসজিদটিতে এবার আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৪০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর, তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হলে সেখান থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারের ১৫ কোটি টাকা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ কোটি টাকা বেশি। পাগলা মসজিদের ইতিহাস বেশ পুরনো। জনশ্রুতি আছে, এখানে মানত করলে তা পূর্ণ হয়। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে মানতের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। এই মসজিদের দানবাক্সগুলোর প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর খোলা হয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের সংগ্রহকৃত অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি বলেন, ‘এটি হবে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স। ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্যও নানা সুবিধা থাকবে।’ পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, দানবাক্সের টাকার হিসাব সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টাকা গণনার সময় ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পাগলা মসজিদের অর্থ দিয়ে সমাজের উন্নয়নে কাজ করায় তাদের আস্থা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ হলে এটি কিশোরগঞ্জের জন্য আরও একটি গর্বের বিষয় হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা