মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (৫২ বিজিবি) বিশেষ অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী জব্দ করা হয়।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজনের নেতৃত্বে বড়লেখা উপজেলার বিওসিটিলা বিওপির একটি বিশেষ অভিযানিক দল বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীকে চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা অন্ধকার ও জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত পিলার ১৩৮৫/এম থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘পাওয়ার জেল নাইনটি’ বিস্ফোরক (২৩টি টিউব), ২৪টি ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তৈরির তার এবং দুটি কুকরি চাপাতি উদ্ধার করেন।
৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন বলেন, বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এ ধরনের অভিযান সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও তা সহায়ক হবে। তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলি সীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। পালিয়ে যাওয়া দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এই এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার হয়ে আসছে। বিজিবির এই অভিযান এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার স্বাক্ষী হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং এসব সামগ্রী আইনি প্রক্রিয়া শেষে ধ্বংস করা হবে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলেছেন, সীমান্তে অস্ত্র পাচার রোধে বিজিবির এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র ও মাদক পাচার বেড়ে যাওয়ায় বিজিবি তাদের নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে। বড়লেখা সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা এ অভিযানেরই অংশ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন