ঢাকা    শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
গণবার্তা

চীনের সঙ্গে গণমাধ্যম খাতে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

চীনের সঙ্গে গণমাধ্যম খাতে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) প্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এসব সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।

স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব, গ্লোবাল সাউথভুক্ত গণমাধ্যম বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে জানা গেছে। এই সমঝোতা স্মারকগুলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্ত হতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত মঙ্গলবার চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার রাতে প্রতিনিধিদলসহ দেশে ফিরবেন। সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ প্রতিবেদন তৈরি এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতারও সুযোগ তৈরি হবে। সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রধান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে বলেন, ‘এই সমঝোতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। আমরা সংবাদ ও তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে কাজ করবো।’ অন্যদিকে চায়না মিডিয়া গ্রুপের প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারব।’ তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের জন্য একটি বড় অর্জন। চীনের শক্তিশালী প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগবে। আমরা সংবাদ মান, সম্প্রচার প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা পাবো।’ এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ডিজিটাল সম্প্রচার, অনলাইন সংবাদ প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। দুই দেশের মধ্যে সংবাদ বিনিময়ও সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সফরকালে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। গণমাধ্যম খাতের এই চারটি চুক্তি সফরের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এসব চুক্তি বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সিনহুয়া ও সিএমজির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এ পর্যন্ত মূলত সংবাদ বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে নতুন চুক্তিগুলো তা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করবে। বিশেষ করে পেশাদার প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা উপকৃত হবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব চুক্তি বাস্তবায়নের একটি রোডম্যাপ তৈরি করবে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের জন্য ইতিবাচক। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা বলেছেন, তারা চুক্তির সুফল পেতে উন্মুখ, কিন্তু কোনো ধরনের প্রভাব বা সেন্সরশিপ যেন না আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের অধিকারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না, বরং তাদের দক্ষতা বাড়াবে এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই চুক্তিগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংবাদ বিনিময়, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সম্প্রচার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


চীনের সঙ্গে গণমাধ্যম খাতে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image
চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) প্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এসব সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়।স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব, গ্লোবাল সাউথভুক্ত গণমাধ্যম বিষয়ে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সম্প্রচার ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে জানা গেছে। এই সমঝোতা স্মারকগুলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং গণমাধ্যম ও তথ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্ত হতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত মঙ্গলবার চীনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার রাতে প্রতিনিধিদলসহ দেশে ফিরবেন। সমঝোতা স্মারকগুলোর আওতায় আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, প্রশিক্ষণ, যৌথ প্রতিবেদন তৈরি এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতারও সুযোগ তৈরি হবে। সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রধান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে বলেন, ‘এই সমঝোতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। আমরা সংবাদ ও তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে কাজ করবো।’ অন্যদিকে চায়না মিডিয়া গ্রুপের প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারব।’ তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের জন্য একটি বড় অর্জন। চীনের শক্তিশালী প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগবে। আমরা সংবাদ মান, সম্প্রচার প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা পাবো।’ এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ডিজিটাল সম্প্রচার, অনলাইন সংবাদ প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। দুই দেশের মধ্যে সংবাদ বিনিময়ও সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সফরকালে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। গণমাধ্যম খাতের এই চারটি চুক্তি সফরের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এসব চুক্তি বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সিনহুয়া ও সিএমজির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এ পর্যন্ত মূলত সংবাদ বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে নতুন চুক্তিগুলো তা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করবে। বিশেষ করে পেশাদার প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা উপকৃত হবেন। তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব চুক্তি বাস্তবায়নের একটি রোডম্যাপ তৈরি করবে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের জন্য ইতিবাচক। তবে তারা সতর্ক করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা বলেছেন, তারা চুক্তির সুফল পেতে উন্মুখ, কিন্তু কোনো ধরনের প্রভাব বা সেন্সরশিপ যেন না আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের অধিকারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না, বরং তাদের দক্ষতা বাড়াবে এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই চুক্তিগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংবাদ বিনিময়, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সম্প্রচার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা