জামালপুরের মাদারগঞ্জে অসহনীয় লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। রোববার দিবাগত রাতে তারা কয়েক ঘণ্টা স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ১০টার দিকে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ গ্রাহক মাদারগঞ্জ উপজেলা সদরের পূর্বপাড়া এলাকায় অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেরাও করেন। এ সময় তারা কেন্দ্রে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ অফিসের ডিজিএম ফারজানা ইয়াসমিনও সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কয়েকজন বিক্ষোদ্ধ গ্রাহক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানান, পল্লী বিদ্যুৎ মাদারগঞ্জ অফিসের আওতাধীন পুরো উপজেলায় ব্যাপক লোডশেডিং ও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাশাপাশি আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণেই তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডি.জি.এম. ফারজানা ইয়াসমিন জানান, কয়েকশ মানুষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে কেন্দ্রটি ঘেরাও করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি জানান, মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সময়-অসময়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে লোডশেডিং কমানোর চেষ্টা করা হবে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা সহ্য করে আসছেন। গরমের মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুমানো ও কাজ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। তারা দাবি জানান, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে লোডশেডিং কমানোর ব্যবস্থা নেয়। পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা জানান, তারা গ্রাহকদের সমস্যা বোঝেন এবং সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেন যে, তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। রাতভর এই বিক্ষোভ শেষে ভোররাতে গ্রাহকরা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। তবে তারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আবারও বড় ধরনের আন্দোলন করবেন। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। তারা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তারা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। মাদারগঞ্জের এই ঘটনা জামালপুরের অন্যান্য অঞ্চলেও বিদ্যুৎ সমস্যা তুলে ধরেছে। প্রতিবেশী কয়েকটি উপজেলায়ও লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করছে। গ্রাহকরা বলছেন, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের চলা কঠিন হয়ে যায়। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এদিকে জামালপুর জেলা প্রশাসন বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করবে। তারা গ্রাহকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, তারা লোডশেডিং কমানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হওয়ার আশা করছেন তারা। এলাকাবাসীও সেই আশায় রয়েছেন। তবে সমাধান না হলে তারা আবারও বিক্ষোভ করবেন বলে জানিয়েছেন। মাদারগঞ্জের এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, বিদ্যুৎ সমস্যা এখন দেশের অন্যতম বড় সংকট। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এর সমাধান করতে হবে। অন্যথায় জনগণের অসন্তোষ আরও বাড়বে এবং আরও বড় আন্দোলন সৃষ্টি হতে পারে। গ্রাহকরা চান, তারা যেন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে পারেন। তাদের এই দাবি যৌক্তিক এবং সরকারের উচিত তা দ্রুত পূরণ করা।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন