ভোলার লালমোহনে দলবদ্ধ হামলায় ইব্রাহিম খলিল নয়ন (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিসহ থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে মো. আব্দুল্লাহ আল মানিক (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম চেয়ারম্যান বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত নয়ন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সালাউদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত মানিক লালমোহন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে। সে লালমোহন আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহতরা হলেন পৌরসভার বাসিন্দা আলী জিন্নাহর ছেলে আরমান ও আবুল কালাম আজাদের ছেলে আশরাফ। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের বরিশালে রেফার করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পূর্ব বিরোধের জেরে মানিক ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নয়ন ও তার সঙ্গীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় মানিকের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নয়ন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আহত হন আরও দুজন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নয়নের স্বজন ও স্থানীয়রা লালমোহন থানা গেটের সামনে জড়ো হয়ে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিত কুমার ঘোষ ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছাড়েন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিত কুমার ঘোষ বলেন, দুপুরে ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশের বালুর মাঠ এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। প্রধান অভিযুক্ত আমাদের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালমোহনে এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত নয়ন পরিবারের একমাত্র ছেলে ছিল। তার মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা শোকাহত। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্ত মানিককে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার জামিন আবেদন করা হতে পারে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে তার জামিন পাওয়া কঠিন হবে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা কমে এসেছে, তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা এখনও ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, তারা দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে। ভোলার লালমোহনে এই হত্যাকাণ্ড আবারও সমাজে অস্ত্রের প্রভাব ও যুবকদের মধ্যে বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের অপরাধ রোধে আরও সতর্ক হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী দিনগুলোতে এই মামলার অগ্রগতি জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন