খাগড়াছড়ির রামগড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মো. শাহিনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে খাগড়াছড়ি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতে নিযুক্ত রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. শাহিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ জুলাই খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে রামগড় থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চা–দোকানি মো. শাহিনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার এক বছরের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সৃজনী ত্রিপুরা বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির রায় ঘোষণা করায় আমরা সন্তুষ্ট। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।’ অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, এ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। তাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ে নিহত শিশুর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছেন, তাদের মেয়ের হত্যাকারীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের আপিলের ঘোষণার কারণে মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে যেতে পারে। শিশু নির্যাতনের এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কঠোর শাস্তি সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তারা আশা করেন, এই রায় ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা হবে এবং শিশু নির্যাতন কমাতে সহায়তা করবে। খাগড়াছড়ির এই মামলাটি দেশের আইনি ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
শিশু নির্যাতন বন্ধে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আদালতের এই রায় সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। সাধারণ মানুষও এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের শাস্তি যেন সর্বোচ্চ হয়, সেটাই তারা চান। এখন দেখার বিষয়, উচ্চ আদালতে আপিলের পর এই রায় বহাল থাকে কিনা। তবে আপাতত খাগড়াছড়িবাসী ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তুষ্ট। তারা চান, ভবিষ্যতে কোনো শিশু যেন এ ধরনের অপরাধের শিকার না হয়। সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। এই ঘটনা সবার জন্য একটি শিক্ষা। শিশু নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার কর্তব্য। এই কর্তব্য পালনে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। তবেই একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
খাগড়াছড়ির এই রায় সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ। এখন সবাইকে এই প্রচেষ্টায় আরও এগিয়ে আসতে হবে। তবেই শিশুরা নিরাপদ থাকবে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে। এই প্রত্যাশা সবার। সবাই মিলে একটি শিশুবান্ধব সমাজ গড়তে কাজ করলে সফলতা আসবেই। এই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দর একটি পৃথিবী পাবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই সাফল্য আসবে। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য আমরা সবাই দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা থেকে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবাই মিলে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করি। এই প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলি। তাহলে আগামী দিনগুলো হবে আরও উজ্জ্বল। এবং শিশুরা পাবে তাদের প্রাপ্য নিরাপত্তা ও ভালোবাসা। এই লক্ষ্য পূরণে সবাইকে কাজ করতে হবে।
এখন সময় এসেছে, কথা না বলে কাজ করার। আইন প্রয়োগ, সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই পরিবর্তন আসবে। আশা করা যায়, এই ঘটনা থেকে সবাই শিক্ষা নেবে। এবং ভবিষ্যতে আর কেউ এ রকম অপরাধ করবে না। এই প্রত্যাশা সবার। এখন সময় এসেছে, সবাই মিলে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার। সেই সমাজে থাকবে না কোনো শিশু নির্যাতন, কোনো অপরাধ। থাকবে শুধু শান্তি ও সম্প্রীতি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। তবেই সত্যিকার অর্থে আমরা উন্নত সমাজ গড়তে পারবো। এই প্রত্যাশা নিয়েই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে। তাহলেই আমরা সফল হবো।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন