ঢাকা    রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, কোটি টাকার পণ্য নষ্ট

বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, কোটি টাকার পণ্য নষ্ট

টানা বর্ষণে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল পানিতে তলিয়েছে। এতে বেশ কিছু শেডে পানি ঢুকে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে আমদানি-রপ্তানির জন্য রাখা কোটি কোটি টাকার পণ্য। সরু ড্রেনসহ পানি নিষ্কাশনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, দেশের বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে বন্দর শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় আমদানিকৃত মালামাল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা । গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বন্দরের তিন নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের মালামাল। বন্দরের ৯, ১২, ১৫, ১৬ ও ১৮ নম্বর শেডে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় লোড-আনলোড কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।

আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রফিকুল ইসলাম ও আরমান হোসেন বলেন, পানিতে ক্ষতি হলেও আমদানিকারকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পান না। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। । বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম গণমাধ্যমকে বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে । বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না ।

বেনাপোল স্থলবন্দর উপ-পরিচালক কাজী রতন জানান, বেশ কিছু শেডে রাখা মালামাল পানিতে ভিজেছে। পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে । তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। পানি বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করেন তিনি।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, বন্দরের জলাবদ্ধতা প্রতি বছরই তৈরি হয়। বিশেষ করে রেল বিভাগ কালভার্ট না রেখে মাটি ভরাট করায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে । জলাবদ্ধতা নিরসনে পার্শ্ববর্তী হাওড়ের সঙ্গে বন্দরের ড্রেন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, কোটি টাকার পণ্য নষ্ট

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image
টানা বর্ষণে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল পানিতে তলিয়েছে। এতে বেশ কিছু শেডে পানি ঢুকে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে আমদানি-রপ্তানির জন্য রাখা কোটি কোটি টাকার পণ্য। সরু ড্রেনসহ পানি নিষ্কাশনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, দেশের বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে বন্দর শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় আমদানিকৃত মালামাল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা । গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বন্দরের তিন নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের মালামাল। বন্দরের ৯, ১২, ১৫, ১৬ ও ১৮ নম্বর শেডে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় লোড-আনলোড কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রফিকুল ইসলাম ও আরমান হোসেন বলেন, পানিতে ক্ষতি হলেও আমদানিকারকরা কোনো ক্ষতিপূরণ পান না। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। । বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম গণমাধ্যমকে বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে । বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না ।বেনাপোল স্থলবন্দর উপ-পরিচালক কাজী রতন জানান, বেশ কিছু শেডে রাখা মালামাল পানিতে ভিজেছে। পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে । তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। পানি বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করেন তিনি।বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, বন্দরের জলাবদ্ধতা প্রতি বছরই তৈরি হয়। বিশেষ করে রেল বিভাগ কালভার্ট না রেখে মাটি ভরাট করায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে । জলাবদ্ধতা নিরসনে পার্শ্ববর্তী হাওড়ের সঙ্গে বন্দরের ড্রেন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা