আজ রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের এই দিনে সংঘটিত দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলটসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষক, তিনজন অভিভাবক, একজন কর্মচারী ও পাইলট ছিলেন।
গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরাও আহতদের উদ্ধার ও রক্ত সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ঘটনার দিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। গুরুতর দগ্ধ ও আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যা গত বছরের ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোডের আওতায় নির্মিত হয়নি এবং ভবনে পর্যাপ্ত সিঁড়ি না থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।
এক বছর পেরিয়েও ট্রাজেডির প্রভাব কাটেনি। নিহতদের স্বজন, সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই দিনের বিভীষিকা এখনো ভুলতে পারেননি। আহত কয়েকজন এখনও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।
মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষ আজ নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। ট্রাজেডির এক বছর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন