ঢাকা    বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

ভিসা জালিয়াতি:

বিমানবন্দরে গিয়ে জানলেন তার নিজের পাসপোর্টে আরেক নারী ইতালিতে

বিমানবন্দরে গিয়ে জানলেন তার নিজের পাসপোর্টে আরেক নারী ইতালিতে
জালিয়াতি করে ইতালিতে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতজন। ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে একটি মানব পাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটির বিরুদ্ধে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন—বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ, একটি এম্বোস সিল এবং আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করেন। স্বামীর কাছে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। পরে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নবায়নের প্রয়োজন হলে তার পরিচয় হয় নাজমুল হাসানের সঙ্গে। নাজমুল দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন।

ভিসা হওয়ার পর টাকা না পাওয়ায় তারা পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেন। পরে পাসপোর্ট ফেরত পেতে ভুক্তভোগী চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ও ১১ মে দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেন। টাকা পাওয়ার পর পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী পরিবারের জন্য বিমানের টিকিট কাটার পর নির্ধারিত দিনে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে যান। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সেখানে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে ২৪ এপ্রিলই অন্য এক নারী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। এরপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে ভিসা জালিয়াতি ও মানব পাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখত এবং জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠাত। তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায়ও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটারসহ অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


বিমানবন্দরে গিয়ে জানলেন তার নিজের পাসপোর্টে আরেক নারী ইতালিতে

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image
ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে একটি মানব পাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটির বিরুদ্ধে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।গ্রেপ্তাররা হলেন—বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ, একটি এম্বোস সিল এবং আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করেন। স্বামীর কাছে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। পরে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নবায়নের প্রয়োজন হলে তার পরিচয় হয় নাজমুল হাসানের সঙ্গে। নাজমুল দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন।ভিসা হওয়ার পর টাকা না পাওয়ায় তারা পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেন। পরে পাসপোর্ট ফেরত পেতে ভুক্তভোগী চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ও ১১ মে দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেন। টাকা পাওয়ার পর পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী পরিবারের জন্য বিমানের টিকিট কাটার পর নির্ধারিত দিনে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরে যান। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সেখানে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে ২৪ এপ্রিলই অন্য এক নারী ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। এরপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন।সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে ভিসা জালিয়াতি ও মানব পাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রাখত এবং জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠাত। তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায়ও তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটারসহ অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা