ঢাকা    রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন বিতর্ক: শিবলিঙ্গ স্থাপনের পরিকল্পনা

আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন বিতর্ক: শিবলিঙ্গ স্থাপনের পরিকল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৬৫০ বছরের পুরনো এই স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু সংগঠন আদিনা মসজিদের ৫০ মিটারের মধ্যে শিবলিঙ্গ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।

১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। এটি একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ ছিল । তবে বিজেপি ও হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, এই স্থাপত্য আদিনাথ মন্দিরের ওপর নির্মিত হয়েছে । তাদের ভাষ্য, স্থাপত্যের বিভিন্ন কারুকার্যে হিন্দু দেব-দেবীর অস্তিত্ব রয়েছে এবং শিবলিঙ্গের প্রমাণও পাওয়া যায়।

শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা ও আইনি প্রক্রিয়া

‘আদিনাথ পুরাতন শিব মন্দির কমিটি’ নামের সংগঠনটি সোমবার (২৭ জুলাই) আদিনা মসজিদের ৫০ মিটারের মধ্যে শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে । হুগলি জেলার তারকেশ্বর থেকে ৩.৬ ফুট উঁচু ও ১.৫ টন ওজনের একটি শিবলিঙ্গ আনা হচ্ছে ।

সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিজেপি নেতা কাজল গোস্বামী জানিয়েছেন, তারা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন এবং প্রথমে আদালতের অনুমতি ছাড়া সুরক্ষিত স্থাপত্যের ভেতরে শিবলিঙ্গ স্থাপন করবেন না । তাঁর দাবি, “এই তথাকথিত মসজিদে হিন্দু ও বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। আদিনাথ মন্দির ধ্বংস করে এখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। আমাদের লক্ষ্য মন্দির পুনরুদ্ধার করে তার ভেতরে শিবলিঙ্গ স্থাপন করা।”

প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) আদিনা মসজিদকে ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মারক ও পুরাতাত্ত্বিক স্থান ও অবশেষ আইনের অধীনে জাতীয় গুরুত্বের একটি কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত স্মারক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । এএসআই স্পষ্ট জানিয়েছে, সুরক্ষিত এই স্থাপত্যের ভেতরে কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা অননুমোদিত কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হবে না । বর্তমানে মসজিদের ভেতরে কোনো নামাজও পড়ানো হয় না।

মালদহ জেলা পুলিশও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সতর্ক করেছে যে, আদিনা স্মারক এএসআই-এর অধীনে জাতীয় গুরুত্বের একটি সংরক্ষিত স্মারক এবং এখানে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন বেআইনি । আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিতর্কের পটভূমি

আদিনা মসজিদের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন । তিনি দাবি করেন, স্থানীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী এই স্থানটি মূলত আদিনাথ মন্দির ছিল।

বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ রাহুল সিনহা এই বিতর্কের তুলনা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ বিতর্কের সঙ্গে করেছেন । অন্যদিকে, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মো. সেলিম এই ঘটনাকে বিজেপির ‘বিভাজন সৃষ্টির পুরোনো কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ঐতিহাসিকদের মতে, আদিনা মসজিদের নির্মাণে পূর্ববর্তী হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্য থেকে সংগৃহীত উপকরণ ও নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, যা সুলতানি আমলে প্রচলিত ছিল । মসজিদের দেওয়ালে হিন্দু দেব-দেবীর খোদাইচিহ্ন ও পদ্ম ফুলের নকশা রয়েছে, যা বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু।

এই বিতর্কের মধ্যে আদালতেও মামলা চলছে । সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করবে এবং এএসআই-এর রিপোর্ট দাবি করবে । বর্তমানে আদিনা মসজিদ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।

বিষয় : ভারত আন্তর্জাতিক

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন বিতর্ক: শিবলিঙ্গ স্থাপনের পরিকল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৬৫০ বছরের পুরনো এই স্থাপত্যকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু সংগঠন আদিনা মসজিদের ৫০ মিটারের মধ্যে শিবলিঙ্গ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। এটি একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ ছিল । তবে বিজেপি ও হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি, এই স্থাপত্য আদিনাথ মন্দিরের ওপর নির্মিত হয়েছে । তাদের ভাষ্য, স্থাপত্যের বিভিন্ন কারুকার্যে হিন্দু দেব-দেবীর অস্তিত্ব রয়েছে এবং শিবলিঙ্গের প্রমাণও পাওয়া যায়।শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা ও আইনি প্রক্রিয়া‘আদিনাথ পুরাতন শিব মন্দির কমিটি’ নামের সংগঠনটি সোমবার (২৭ জুলাই) আদিনা মসজিদের ৫০ মিটারের মধ্যে শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে । হুগলি জেলার তারকেশ্বর থেকে ৩.৬ ফুট উঁচু ও ১.৫ টন ওজনের একটি শিবলিঙ্গ আনা হচ্ছে ।সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিজেপি নেতা কাজল গোস্বামী জানিয়েছেন, তারা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন এবং প্রথমে আদালতের অনুমতি ছাড়া সুরক্ষিত স্থাপত্যের ভেতরে শিবলিঙ্গ স্থাপন করবেন না । তাঁর দাবি, “এই তথাকথিত মসজিদে হিন্দু ও বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। আদিনাথ মন্দির ধ্বংস করে এখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। আমাদের লক্ষ্য মন্দির পুনরুদ্ধার করে তার ভেতরে শিবলিঙ্গ স্থাপন করা।”প্রশাসনের কঠোর অবস্থানভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) আদিনা মসজিদকে ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মারক ও পুরাতাত্ত্বিক স্থান ও অবশেষ আইনের অধীনে জাতীয় গুরুত্বের একটি কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত স্মারক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । এএসআই স্পষ্ট জানিয়েছে, সুরক্ষিত এই স্থাপত্যের ভেতরে কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা অননুমোদিত কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হবে না । বর্তমানে মসজিদের ভেতরে কোনো নামাজও পড়ানো হয় না।মালদহ জেলা পুলিশও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সতর্ক করেছে যে, আদিনা স্মারক এএসআই-এর অধীনে জাতীয় গুরুত্বের একটি সংরক্ষিত স্মারক এবং এখানে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন বেআইনি । আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বিতর্কের পটভূমিআদিনা মসজিদের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন । তিনি দাবি করেন, স্থানীয় ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী এই স্থানটি মূলত আদিনাথ মন্দির ছিল।বিজেপি রাজ্যসভা সাংসদ রাহুল সিনহা এই বিতর্কের তুলনা অযোধ্যার বাবরি মসজিদ বিতর্কের সঙ্গে করেছেন । অন্যদিকে, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মো. সেলিম এই ঘটনাকে বিজেপির ‘বিভাজন সৃষ্টির পুরোনো কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঐতিহাসিকদের মতে, আদিনা মসজিদের নির্মাণে পূর্ববর্তী হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্য থেকে সংগৃহীত উপকরণ ও নকশা ব্যবহার করা হয়েছে, যা সুলতানি আমলে প্রচলিত ছিল । মসজিদের দেওয়ালে হিন্দু দেব-দেবীর খোদাইচিহ্ন ও পদ্ম ফুলের নকশা রয়েছে, যা বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু।এই বিতর্কের মধ্যে আদালতেও মামলা চলছে । সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করবে এবং এএসআই-এর রিপোর্ট দাবি করবে । বর্তমানে আদিনা মসজিদ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা