ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

আবারও রাজপথে নামার হুমকি ককরোচ পার্টির

আবারও রাজপথে নামার হুমকি ককরোচ পার্টির

ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা আবারও আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ স্থগিত করার পর গ্রেপ্তার সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে তারা পুনরায় রাজপথে নামবেন।

কয়েক সপ্তাহের টানা আন্দোলনের চাপে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এর আগে মাত্র একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। এই ঘটনাকে সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল তাদের মূল দাবি। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। দিল্লির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জায়গাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার পর সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহার করে। কিন্তু দলটির অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিত করার পর দেশজুড়ে একশোর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাও দেওয়া হয়েছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছিল এখন বা ভবিষ্যতে কোনো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সেই আশ্বাসের পরই গত শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।

সোমবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করার জন্য সরকারকে সতর্ক করেছে সিজেপি। দলটি জানিয়েছে, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার খবর পাওয়া গেছে। মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি চুক্তি সম্মান না করে এবং আটক বা গ্রেপ্তার সবাইকে মুক্তি না দেয়, তাহলে আমরা আবার আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হব।

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সদস্যরা বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন। গ্রেপ্তারদের মুক্তি না দিলে আন্দোলন নতুন করে শুরু করার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার বিহার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার আগে পর্যন্ত করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। আইএসএ জানিয়েছে, আসাম সরকারও মামলা তুলে নিয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে মামলা হয়েছে। শুক্রবারের সমাবেশে আপত্তিকর পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে সোমবার রাজ্য সরকার মামলা করেছে। ওই সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই মুসলিম।

শুক্রবারের সমাবেশে মোদির কার্টুনচিত্র হাতে ধরে রাখার অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিকে গালমন্দ করা পোস্টের ওপর নজরদারি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তিনটি প্ল্যাটফর্মকে এ ধরনের পোস্ট সরিয়ে ফেলতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজপথের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিক্ষোভকারীরা সক্রিয় ছিলেন। মোদিকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক রিলস ও মিমে ভরে উঠেছিল ইনস্টাগ্রাম। অনেক সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, সরকারবিরোধী সমালোচনা করায় তাঁদের পোস্ট দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিজেপি গত সোমবার জানিয়েছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের আইনি খরচ মেটাতে একটি আইনি তহবিল গঠন করা হয়েছে।

গত মে মাসে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নের পর আন্দোলন দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দেওয়া আছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

বিষয় : বিক্ষোভ ভারত

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


আবারও রাজপথে নামার হুমকি ককরোচ পার্টির

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image
ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা আবারও আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ স্থগিত করার পর গ্রেপ্তার সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে তারা পুনরায় রাজপথে নামবেন।কয়েক সপ্তাহের টানা আন্দোলনের চাপে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এর আগে মাত্র একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। এই ঘটনাকে সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল তাদের মূল দাবি। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। দিল্লির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জায়গাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণার পর সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহার করে। কিন্তু দলটির অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিত করার পর দেশজুড়ে একশোর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাও দেওয়া হয়েছে।সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছিল এখন বা ভবিষ্যতে কোনো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। সেই আশ্বাসের পরই গত শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।সোমবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ না করার জন্য সরকারকে সতর্ক করেছে সিজেপি। দলটি জানিয়েছে, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার খবর পাওয়া গেছে। মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি চুক্তি সম্মান না করে এবং আটক বা গ্রেপ্তার সবাইকে মুক্তি না দেয়, তাহলে আমরা আবার আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হব।যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সদস্যরা বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন। গ্রেপ্তারদের মুক্তি না দিলে আন্দোলন নতুন করে শুরু করার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।সোমবার বিহার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার আগে পর্যন্ত করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। আইএসএ জানিয়েছে, আসাম সরকারও মামলা তুলে নিয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিয়েছে।তবে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে মামলা হয়েছে। শুক্রবারের সমাবেশে আপত্তিকর পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে সোমবার রাজ্য সরকার মামলা করেছে। ওই সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই মুসলিম।শুক্রবারের সমাবেশে মোদির কার্টুনচিত্র হাতে ধরে রাখার অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিকে গালমন্দ করা পোস্টের ওপর নজরদারি শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তিনটি প্ল্যাটফর্মকে এ ধরনের পোস্ট সরিয়ে ফেলতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।রাজপথের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিক্ষোভকারীরা সক্রিয় ছিলেন। মোদিকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক রিলস ও মিমে ভরে উঠেছিল ইনস্টাগ্রাম। অনেক সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, সরকারবিরোধী সমালোচনা করায় তাঁদের পোস্ট দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।সিজেপি গত সোমবার জানিয়েছে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের আইনি খরচ মেটাতে একটি আইনি তহবিল গঠন করা হয়েছে।গত মে মাসে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নের পর আন্দোলন দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দেওয়া আছে।সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা