ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
গণবার্তা

গাইবান্ধায় দাফনের তিন মাস পর বৃদ্ধের লাশ উত্তোলন

গাইবান্ধায় দাফনের তিন মাস পর বৃদ্ধের লাশ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় দাফনের প্রায় তিন মাস পর তৈয়ব আলী সরকার (৮০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়। তৈয়ব আলী সরকার উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

তৈয়ব আলী সরকারের বড় মেয়ে কোহিনূর বেগম গত ৭ জুন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর আমলি আদালতে তার ছোট বোনসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত গত ১১ জুন মামলাটি তদন্তের জন্য সাদুল্লাপুর থানাকে নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন—তৈয়ব আলী সরকারের ছোট মেয়ে রহিমা বেগম, রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, জামাতা রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার এমাতপুর ডোবার বাজার গ্রামের হামিদুল ইসলাম এবং ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, গত মার্চ মাসে তৈয়ব আলী সরকার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই খবর পেয়ে গত ১৪ মে চিকিৎসার জন্য তার ছোট মেয়ে রহিমা বেগম তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর গত ১৫ ও ১৬ মার্চ দুটি পৃথক চেকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখায় গচ্ছিত তার ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ১৮ মে রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও জামাতা হামিদুল ইসলাম তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ১৯ মে রাতে তিনি মারা যান। পরদিন ২০ মে নলডাঙ্গা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া জানান, মামলার বাদীর অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় জোরপূর্বক চেকে টিপসই নিয়ে আসামিরা যোগসাজশে ওই টাকা উত্তোলন করেন। পরে বিষয়টি যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য রহিমা বেগম তার বাবাকে মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সহযোগিতায় বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


গাইবান্ধায় দাফনের তিন মাস পর বৃদ্ধের লাশ উত্তোলন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় দাফনের প্রায় তিন মাস পর তৈয়ব আলী সরকার (৮০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়। তৈয়ব আলী সরকার উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।তৈয়ব আলী সরকারের বড় মেয়ে কোহিনূর বেগম গত ৭ জুন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর আমলি আদালতে তার ছোট বোনসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত গত ১১ জুন মামলাটি তদন্তের জন্য সাদুল্লাপুর থানাকে নির্দেশ দেন।মামলার আসামিরা হলেন—তৈয়ব আলী সরকারের ছোট মেয়ে রহিমা বেগম, রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, জামাতা রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার এমাতপুর ডোবার বাজার গ্রামের হামিদুল ইসলাম এবং ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, গত মার্চ মাসে তৈয়ব আলী সরকার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই খবর পেয়ে গত ১৪ মে চিকিৎসার জন্য তার ছোট মেয়ে রহিমা বেগম তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর গত ১৫ ও ১৬ মার্চ দুটি পৃথক চেকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখায় গচ্ছিত তার ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ১৮ মে রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও জামাতা হামিদুল ইসলাম তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ১৯ মে রাতে তিনি মারা যান। পরদিন ২০ মে নলডাঙ্গা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া জানান, মামলার বাদীর অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় জোরপূর্বক চেকে টিপসই নিয়ে আসামিরা যোগসাজশে ওই টাকা উত্তোলন করেন। পরে বিষয়টি যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য রহিমা বেগম তার বাবাকে মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে সহযোগিতায় বালিশচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা