ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর, এর চেয়ে শিহরণ জাগানিয়া মুহূর্ত সম্ভবত আর আসেনি! ডারউইনের বাইশ গজে আজ কেবল একটি টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়নি; বরং লেখা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট-রূপকথার সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

টেস্ট ক্রিকেটে টানা চারদিন বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত কাটল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরের দল অবিশ্বাস্য এক জয়ের দেখা পেল।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয়ের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক হলো। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং এই টেস্ট সিরিজটি তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত তৈরি হয়ে গেল।

দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট।

তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন। এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারদের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান মাহমুদ জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন। প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ।

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের কীর্তি এখন বাংলাদেশের নামের পাশে যুক্ত হলো। ডারউইনের এই মাঠে ২০০৩ সালে যখন বাংলাদেশ তাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছিল, তখন ইনিংস ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল। সেই দল আজ ২৩ বছর পর এসে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই হারিয়ে দিল—এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য। এখন সামনে দ্বিতীয় টেস্ট, সিরিজ জয়ের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image
লাল-সবুজের ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে রোমাঞ্চকর, এর চেয়ে শিহরণ জাগানিয়া মুহূর্ত সম্ভবত আর আসেনি! ডারউইনের বাইশ গজে আজ কেবল একটি টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়নি; বরং লেখা হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট-রূপকথার সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।টেস্ট ক্রিকেটে টানা চারদিন বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্ত কাটল। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অজিদের বিপক্ষে ৯ নম্বরের দল অবিশ্বাস্য এক জয়ের দেখা পেল।অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয়ের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক হলো। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং এই টেস্ট সিরিজটি তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট।তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন। এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারদের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা।অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান মাহমুদ জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন। প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ এবার ডাক মারলেন। এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার স্মৃতি অজিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কোনো কাজে দিলো না। ৫৭ রানের লক্ষ্য অনায়াসে পূরণ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখল বাংলাদেশ।এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের কীর্তি এখন বাংলাদেশের নামের পাশে যুক্ত হলো। ডারউইনের এই মাঠে ২০০৩ সালে যখন বাংলাদেশ তাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছিল, তখন ইনিংস ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল। সেই দল আজ ২৩ বছর পর এসে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই হারিয়ে দিল—এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য। এখন সামনে দ্বিতীয় টেস্ট, সিরিজ জয়ের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা