ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি

ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর খবর প্রকাশ

ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর খবর প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এতে যুদ্ধ শুরুর আগে থাকা মার্কিন রিপার ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পরও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও কার্যকর। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন ধ্বংসের সংখ্যা মে মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখানো হয়েছে। ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা এমকিউ–৯ রিপার-এর প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি।

একেকটি এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনের মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এর দাম নির্ভর করে এতে ব্যবহৃত সেন্সর, রাডার এবং অস্ত্রের বিন্যাসের ওপর। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই চালকবিহীন আকাশযান উচ্চ উচ্চতায় থেকে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) গাইডেড বোমাও বহন করা যায়। তবে ড্রোনটি তুলনামূলক ধীরগতির এবং মাঝারি থেকে নিচু উচ্চতায় উড়ে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এলাকায় এ বৈশিষ্ট্যই এটিকে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ইরানের আইআরজিসি এবং ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্যও তাই রিপার ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালির আশপাশে এই ড্রোনটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি জলপথটিতে একটি 'ইস্পাতের প্রাচীর' নৌ অবরোধ কার্যকর করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে যেসব মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে এসেছে, এমকিউ–৯ রিপার সেই ক্রমবর্ধমান তালিকারই একটি অংশ।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি রিপার ড্রোন ধীরে ধীরে বহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম খরচের এমন সশস্ত্র নজরদারি ড্রোনের একটি নতুন বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন, যেগুলো ঝাঁকবদ্ধভাবে (swarming) লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হবে।

যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের মজুতও কমে গেছে। এগুলো হলো এমন সামরিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা পাল্টা আক্রমণের সীমার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে থেকে লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৮৫০ টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজারটির বেশি প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অলটিট্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

মার্কিন অস্ত্রের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর খবর অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং নতুন অস্ত্রও উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। এর মধ্যে ইরানবিরোধী 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনরায় পূরণের অর্থও রয়েছে।

গত ৬ আগস্ট ক্যাবিনেট বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ঘাটতি ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের নতুন হামলা চালানো থেকে তার প্রশাসনকে বিরত রাখার অন্যতম কারণ।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ইরানবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর খবর প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এতে যুদ্ধ শুরুর আগে থাকা মার্কিন রিপার ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পরও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও কার্যকর। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন ধ্বংসের সংখ্যা মে মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখানো হয়েছে। ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা এমকিউ–৯ রিপার-এর প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি।একেকটি এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনের মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এর দাম নির্ভর করে এতে ব্যবহৃত সেন্সর, রাডার এবং অস্ত্রের বিন্যাসের ওপর। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই চালকবিহীন আকাশযান উচ্চ উচ্চতায় থেকে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) গাইডেড বোমাও বহন করা যায়। তবে ড্রোনটি তুলনামূলক ধীরগতির এবং মাঝারি থেকে নিচু উচ্চতায় উড়ে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এলাকায় এ বৈশিষ্ট্যই এটিকে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ইরানের আইআরজিসি এবং ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্যও তাই রিপার ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।হরমুজ প্রণালির আশপাশে এই ড্রোনটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি জলপথটিতে একটি 'ইস্পাতের প্রাচীর' নৌ অবরোধ কার্যকর করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে যেসব মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে এসেছে, এমকিউ–৯ রিপার সেই ক্রমবর্ধমান তালিকারই একটি অংশ।এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি রিপার ড্রোন ধীরে ধীরে বহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম খরচের এমন সশস্ত্র নজরদারি ড্রোনের একটি নতুন বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন, যেগুলো ঝাঁকবদ্ধভাবে (swarming) লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হবে।যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের মজুতও কমে গেছে। এগুলো হলো এমন সামরিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা পাল্টা আক্রমণের সীমার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে থেকে লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৮৫০ টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজারটির বেশি প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অলটিট্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।মার্কিন অস্ত্রের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর খবর অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং নতুন অস্ত্রও উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে।তবে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। এর মধ্যে ইরানবিরোধী 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনরায় পূরণের অর্থও রয়েছে।গত ৬ আগস্ট ক্যাবিনেট বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ঘাটতি ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের নতুন হামলা চালানো থেকে তার প্রশাসনকে বিরত রাখার অন্যতম কারণ।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা