বিয়ের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে আগের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে বিয়ে করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সেই আলোচিত প্রবাসী যুবক জুনায়েদ মিয়া। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে নতুন কনের মামার বাড়িতে জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে নববধূর সঙ্গে তোলা ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন জুনায়েদ।
জুনায়েদ মিয়া কসবার নিয়ামতপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি জাপানপ্রবাসী। তার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল সোমবার (১৭ আগস্ট)। সেদিন বরপক্ষ কনের বাড়িতে যাওয়ার পর খাবারের আয়োজনে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখায় কথা-কাটাকাটিতে জড়ান বর। এ কারণে তার সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় কনের পরিবার। উপহারসামগ্রীসহ বরের পরিবারকে বিদায় করে দেন কনের স্বজনেরা। ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
পরে জুনায়েদ নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে প্রথম বিয়ের কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে লিখেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ গুণ কাবিন দাবি করে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে কনের জন্য আনা মালামালও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া কনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাতে কনেপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান জুনায়েদ। তার দাবি, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে টাকা দিয়ে সাংবাদিক ভাড়া করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে কনেপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিত ফর্দনামায় ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং বরের পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন তাতে স্বাক্ষরও করেন।
এরপর নতুন করে বিয়ের আয়োজন হয় জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে। তিনি আখাউড়া উপজেলার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে এবং কসবার সায়েদাবাদ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কনের মামার বাড়ি কসবার নেয়ামতপুর গ্রামে। বর জুনায়েদ মিয়ার গ্রামেই কনের মামা তাজুল ইসলাম সরকারের বাড়ি।
জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ রানা বলেন, নতুন এই বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষই তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উভয় পক্ষের আলোচনায় গতকাল রাতে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা। তার ভাইয়ের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি আছে। তবে তিনি ছুটি বাড়াবেন।
বিয়ের পর রাত একটার দিকে নববধূর সঙ্গে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন জুনায়েদ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।’
এদিকে নতুন কনেপক্ষের দেওয়া বিয়ের খাবারের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বরের জন্য রাখা খাবারে এবার আস্ত খাসিও ছিল। বরসহ অন্যরা আনন্দের সঙ্গে সেই খাসি ও অন্যান্য খাবার খান। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই বিয়ের ঘটনার পর জুনায়েদ নতুন করে বিয়ে করায় আবারও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন