ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

ট্রাম্পের দাবি: কিম জং উনের কাছে ৫৭টি পরমাণু বোমা

ট্রাম্পের দাবি: কিম জং উনের কাছে ৫৭টি পরমাণু বোমা

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কাছে কমপক্ষে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা আছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরমাণু বোমার অধিকারী হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে 'মিলেমিশে থাকা জরুরি' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি ।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউজে নতুন একটি হেলিপ্যাড উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। সে সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "তার (কিম জং উন) কাছে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা আছে। এটা কখনই ঘটতে দেওয়া উচিত ছিল না... আমি (প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে) প্রেসিডেন্ট হলে এটা হতে দিতাম না। কিন্তু তিনি (কিম) পরমাণু বোমা তৈরিতে সফল হয়েছেন এবং তার কাছে সেগুলো আছে।"

ট্রাম্প আরও বলেন, "কিমের সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমি ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে দেবো না এবং আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমি জানি তিনি ভালোই থাকবেন।"

তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নের পার্থক্য রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক সংসদ সদস্যদের জানিয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে । এই সংখ্যা ট্রাম্পের দেওয়া হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে এটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি অনুমান এবং সামরিক বাহিনী এই সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারে না ।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে যে, আগামী নভেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী ২১টি দেশের জোট এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (অ্যাপেক) সম্মেলন উপলক্ষ্যে চীন সফরে যাবেন ট্রাম্প। সেই সফরে কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে চান তিনি। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "হ্যাঁ, (কিমের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে) আমি আগ্রহী।" তিনি কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন । তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের প্রতি নেতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া কমানো সত্ত্বেও তা উস্কানিমূলক ও আগ্রাসী রয়ে গেছে এবং তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্প্রতি কোনো যোগাযোগের বিষয়ে জানেন না ।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি উত্তর কোরিয়ার কোনো সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিজের প্রথম মেয়াদে (২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল) কিম জং উনের সঙ্গে তিন বার বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। প্রথম বৈঠক হয়েছিল ২০১৮ সালে, সিংগাপুরে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০১৯ সালে, হ্যানয়ে। শেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২০১৯ সালের জুন মাসে উত্তর কোরিয়ার একটি বেসামরিক এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেবার উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন ট্রাম্প।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


ট্রাম্পের দাবি: কিম জং উনের কাছে ৫৭টি পরমাণু বোমা

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের কাছে কমপক্ষে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা আছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরমাণু বোমার অধিকারী হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে 'মিলেমিশে থাকা জরুরি' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি ।বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউজে নতুন একটি হেলিপ্যাড উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। সে সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "তার (কিম জং উন) কাছে ৫৭টি শক্তিশালী পরমাণু বোমা আছে। এটা কখনই ঘটতে দেওয়া উচিত ছিল না... আমি (প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে) প্রেসিডেন্ট হলে এটা হতে দিতাম না। কিন্তু তিনি (কিম) পরমাণু বোমা তৈরিতে সফল হয়েছেন এবং তার কাছে সেগুলো আছে।"ট্রাম্প আরও বলেন, "কিমের সঙ্গে আমার খুবই ভালো সম্পর্ক। আমি ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে দেবো না এবং আমি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমি জানি তিনি ভালোই থাকবেন।"তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নের পার্থক্য রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক সংসদ সদস্যদের জানিয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে । এই সংখ্যা ট্রাম্পের দেওয়া হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে এটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি অনুমান এবং সামরিক বাহিনী এই সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারে না ।সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে যে, আগামী নভেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী ২১টি দেশের জোট এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (অ্যাপেক) সম্মেলন উপলক্ষ্যে চীন সফরে যাবেন ট্রাম্প। সেই সফরে কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে চান তিনি। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "হ্যাঁ, (কিমের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে) আমি আগ্রহী।" তিনি কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন । তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের প্রতি নেতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো-জং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া কমানো সত্ত্বেও তা উস্কানিমূলক ও আগ্রাসী রয়ে গেছে এবং তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্প্রতি কোনো যোগাযোগের বিষয়ে জানেন না ।যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি উত্তর কোরিয়ার কোনো সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিজের প্রথম মেয়াদে (২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল) কিম জং উনের সঙ্গে তিন বার বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। প্রথম বৈঠক হয়েছিল ২০১৮ সালে, সিংগাপুরে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০১৯ সালে, হ্যানয়ে। শেষ বৈঠকটি হয়েছিল ২০১৯ সালের জুন মাসে উত্তর কোরিয়ার একটি বেসামরিক এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেবার উত্তর কোরিয়ার মাটিতে পা রেখেছিলেন ট্রাম্প।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা