ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় ছেলেমেয়েসহ এক দম্পতির লাশ উদ্ধার, ডাকাতির শঙ্কা

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় ছেলেমেয়েসহ এক দম্পতির লাশ উদ্ধার, ডাকাতির শঙ্কা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় ছেলেমেয়েসহ এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়া মন্দির এলাকায় নিজের বসতঘর থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন– রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজবাড়িতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শুরু করেন। তাঁর মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে মাস্টার্সে এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুরের মির্জাপুর ইউনিয়নে।

পুলিশের ধারণা, তিন থেকে চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘরের বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থান ভাঙা পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাকাতি কিনা, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও সিআইডির টিম তদন্ত করছে।

নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পরিবারের কাউকে কল করে না পেয়ে শনিবার রাতে গণপতির বাড়িতে আসেন স্বজনেরা। বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ পেয়েছিলেন এবং অন্ধকার ছিল। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের বাড়ির প্রাচীর টপকে ঘরের জানালা খুললে দুর্গন্ধ পান। পরে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে জানানো হয়। কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী বলেন, লাশগুলো বিকৃত হয়ে গেছে। একজনকে ছাদে, দুজনকে চিলেকোঠায় এবং অন্যজনের লাশ কক্ষে পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো রংপুর মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না। তবে লাশের অবস্থা দেখে ধারণা করছি, তিন থেকে চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো, বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন। ডাকাতির ঘটনাও হতে পারে। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গণপতির ভাবি শেফালী রানী বলেন, রাত ৯টার দিকে খবর পাই– গণপতির বাড়ির কেউ ফোন ধরছেন না। পরে মেয়ে-জামাইকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে বাড়িতে এসে চারজনের লাশ পাই। এমনি এমনি চারজন একসঙ্গে মারা যাওয়ার কথা না। ঘরদুয়ার তছনছ। তাদের মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।

গণপতির শ্যালিকা পূজা রানী বলেন, ‘পরশু রাতে ভাগনির সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। সে বলেছিল– মামনি তোমার বাসায় যাব, চুলগুলো কেটে নেব। সেটাই ছিল তার সঙ্গে শেষ কথা।’ তিনি জানান, শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রথমে বোনকে ফোন করেন তিনি। বন্ধ পেয়ে ভাগনি, দুলাভাই ও ভাগনেকে ফোন দিলেও, বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর দ্রুত মাছুয়াপাড়ায় এসে বাড়িতে সবার লাশ মিলেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমূল কাদের জানান, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি রংপুর অঞ্চলে এমন হত্যাকাণ্ড উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় ছেলেমেয়েসহ এক দম্পতির লাশ উদ্ধার, ডাকাতির শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় ছেলেমেয়েসহ এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাছুয়াপাড়া মন্দির এলাকায় নিজের বসতঘর থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।নিহতরা হলেন– রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)। গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজবাড়িতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শুরু করেন। তাঁর মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে মাস্টার্সে এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুরের মির্জাপুর ইউনিয়নে।পুলিশের ধারণা, তিন থেকে চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘরের বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থান ভাঙা পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাকাতি কিনা, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও সিআইডির টিম তদন্ত করছে।নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পরিবারের কাউকে কল করে না পেয়ে শনিবার রাতে গণপতির বাড়িতে আসেন স্বজনেরা। বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ পেয়েছিলেন এবং অন্ধকার ছিল। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের বাড়ির প্রাচীর টপকে ঘরের জানালা খুললে দুর্গন্ধ পান। পরে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে জানানো হয়। কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী বলেন, লাশগুলো বিকৃত হয়ে গেছে। একজনকে ছাদে, দুজনকে চিলেকোঠায় এবং অন্যজনের লাশ কক্ষে পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো রংপুর মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না। তবে লাশের অবস্থা দেখে ধারণা করছি, তিন থেকে চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো, বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন। ডাকাতির ঘটনাও হতে পারে। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গণপতির ভাবি শেফালী রানী বলেন, রাত ৯টার দিকে খবর পাই– গণপতির বাড়ির কেউ ফোন ধরছেন না। পরে মেয়ে-জামাইকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে বাড়িতে এসে চারজনের লাশ পাই। এমনি এমনি চারজন একসঙ্গে মারা যাওয়ার কথা না। ঘরদুয়ার তছনছ। তাদের মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।গণপতির শ্যালিকা পূজা রানী বলেন, ‘পরশু রাতে ভাগনির সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। সে বলেছিল– মামনি তোমার বাসায় যাব, চুলগুলো কেটে নেব। সেটাই ছিল তার সঙ্গে শেষ কথা।’ তিনি জানান, শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রথমে বোনকে ফোন করেন তিনি। বন্ধ পেয়ে ভাগনি, দুলাভাই ও ভাগনেকে ফোন দিলেও, বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর দ্রুত মাছুয়াপাড়ায় এসে বাড়িতে সবার লাশ মিলেছে।কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমূল কাদের জানান, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি রংপুর অঞ্চলে এমন হত্যাকাণ্ড উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা