ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশকে সাফল্যের পরামর্শ এবি ডি ভিলিয়ার্সের

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশকে সাফল্যের পরামর্শ এবি ডি ভিলিয়ার্সের

অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে দুই ম্যাচের টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। কঠিন এই সফরে বাংলাদেশ ভালো করতে পারে বলে মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই ডি ভিলিয়ার্সের আশাবাদের মূল কারণ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নাজমুল হোসেনের দল। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।

ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘৩৬০’-এ দেওয়া এক ভিডিওতে দলটির প্রশংসা করেন ডি ভিলিয়ার্স। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কীভাবে কঠিন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, সেই পরামর্শও দেন সাবেক এই তারকা।

ডি ভিলিয়ার্স বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই করতে পারে। তবে দেশটির কন্ডিশন বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের জন্য বিশ্বের অন্যতম কঠিন। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় শুধু বল সুইংই করে না, সিমও মুভ করে। পিচে পড়ার পরও বলের মুভমেন্ট থাকে। ফলে এমন কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া ব্যাটসম্যানদের জন্য সেখানে ব্যাট করা কঠিন।

এই পরিস্থিতিতে নিজের ব্যাটিংয়ের কিছু কৌশলের কথাও তুলে ধরেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি জানান, কন্ডিশন অনুযায়ী কখনো ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে, কখনো স্টাম্প ঢেকে আবার কখনো স্টাম্প ছেড়ে দাঁড়িয়ে ব্যাট করেছেন। সিমিং কন্ডিশনে ব্যাটসম্যানদের সক্রিয় ও উদ্যোগী থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সারা দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট করা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের অবস্থান ও কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো করতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ের ধরন পুরোপুরি বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স। তার পরামর্শ, হঠাৎ করে অতিরিক্ত বৈচিত্র্যময় শট খেলার বদলে ছোটখাটো পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের নিজেদের পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য করা যায়। বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ভালো প্রস্তুতি নিয়ে সিমিং ও বাউন্সি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হবে সফরে সাফল্যের চাবিকাঠি।

এদিকে এক দর্শক লাইভ চলাকালে ডি ভিলিয়ার্সকে বাংলাদেশে এসে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেন। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলা এই কিংবদন্তি জানান, আপাতত কোচিংয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, বর্তমানে তিনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত এবং তিন সন্তানকে রেখে দীর্ঘ সময় বিশ্বভ্রমণের জন্য প্রস্তুত নন। তবে অল্প সময়ের জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করা কিংবা মৌসুম শুরুর আগে কয়েকজন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড অবশ্য খুব একটা সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত সেখানে ৮টি টেস্ট খেলে সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ১২ ওয়ানডেতে জয় মাত্র দুটি। আর চারটি টি-টোয়েন্টি খেলে প্রতিটিতেই হারতে হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ১ ডিসেম্বর শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ এবং ১০ ডিসেম্বর মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এবারের সফরে ডি ভিলিয়ার্সের পরামর্শ যেন কাজে লাগিয়ে দলকে ভালো কিছু করতে দেখতে চাইবেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশকে সাফল্যের পরামর্শ এবি ডি ভিলিয়ার্সের

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে আগামী নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেখানে দুই ম্যাচের টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা। কঠিন এই সফরে বাংলাদেশ ভালো করতে পারে বলে মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স।অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই ডি ভিলিয়ার্সের আশাবাদের মূল কারণ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নাজমুল হোসেনের দল। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘৩৬০’-এ দেওয়া এক ভিডিওতে দলটির প্রশংসা করেন ডি ভিলিয়ার্স। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কীভাবে কঠিন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, সেই পরামর্শও দেন সাবেক এই তারকা।ডি ভিলিয়ার্স বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই করতে পারে। তবে দেশটির কন্ডিশন বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের জন্য বিশ্বের অন্যতম কঠিন। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় শুধু বল সুইংই করে না, সিমও মুভ করে। পিচে পড়ার পরও বলের মুভমেন্ট থাকে। ফলে এমন কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া ব্যাটসম্যানদের জন্য সেখানে ব্যাট করা কঠিন।এই পরিস্থিতিতে নিজের ব্যাটিংয়ের কিছু কৌশলের কথাও তুলে ধরেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি জানান, কন্ডিশন অনুযায়ী কখনো ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে, কখনো স্টাম্প ঢেকে আবার কখনো স্টাম্প ছেড়ে দাঁড়িয়ে ব্যাট করেছেন। সিমিং কন্ডিশনে ব্যাটসম্যানদের সক্রিয় ও উদ্যোগী থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সারা দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যাট করা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের অবস্থান ও কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে।তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো করতে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ের ধরন পুরোপুরি বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন ডি ভিলিয়ার্স। তার পরামর্শ, হঠাৎ করে অতিরিক্ত বৈচিত্র্যময় শট খেলার বদলে ছোটখাটো পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষের বোলারদের নিজেদের পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য করা যায়। বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ভালো প্রস্তুতি নিয়ে সিমিং ও বাউন্সি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হবে সফরে সাফল্যের চাবিকাঠি।এদিকে এক দর্শক লাইভ চলাকালে ডি ভিলিয়ার্সকে বাংলাদেশে এসে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেন। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলা এই কিংবদন্তি জানান, আপাতত কোচিংয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি। ডি ভিলিয়ার্স বলেন, বর্তমানে তিনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত এবং তিন সন্তানকে রেখে দীর্ঘ সময় বিশ্বভ্রমণের জন্য প্রস্তুত নন। তবে অল্প সময়ের জন্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করা কিংবা মৌসুম শুরুর আগে কয়েকজন ব্যাটসম্যানের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের রেকর্ড অবশ্য খুব একটা সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত সেখানে ৮টি টেস্ট খেলে সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ১২ ওয়ানডেতে জয় মাত্র দুটি। আর চারটি টি-টোয়েন্টি খেলে প্রতিটিতেই হারতে হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ১ ডিসেম্বর শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ এবং ১০ ডিসেম্বর মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা এবারের সফরে ডি ভিলিয়ার্সের পরামর্শ যেন কাজে লাগিয়ে দলকে ভালো কিছু করতে দেখতে চাইবেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা