ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে ভাষা শিক্ষার জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে ভাষা শিক্ষার জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের বেশির ভাগই অদক্ষ শ্রমিক। দক্ষতা বাড়ানোর বড় উপায় শ্রম চাহিদা আছে এমন দেশের ভাষা শিক্ষা।

বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বেশকিছু অপ্রচলিত শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য ওই দেশের ভাষা জানা জরুরি। চাকরিদাতা দেশে যাওয়ার পর ভাষা শেখার জন্য এবার খরচের যোগান দেবে সরকার।

এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এক হাজার কোটি টাকার তহবিল সরবরাহ করবে। সেই টাকা দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক যেসব দেশে আমাদের কর্মী যাবে, তাদের বেসিক ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাতে টাকা দেবে।’

তবে অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন খাত বিশেষজ্ঞরা এই তহবিলের সমালোচনা করছেন। প্রশ্ন তুলছেন এই ঋণের সঠিক ব্যবহার নিয়ে।

সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, ‘ভাষা শিক্ষার জন্য ১০ লাখ কেন লাগবে? বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রসেসেই তো এত টাকা লাগার কথা না। আর আপনি যদি উপরের একটা স্ল্যাব দিয়ে দেন, তাহলে তার নামে কিন্তু ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাবে। সুতরাং এটাকে রিয়েল সেন্সে নিয়ে আসা উচিত।’

তবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বলছে, ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে আরোপ করা হয়েছে কঠিন শর্ত।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম বলেন, ‘উইদাউট কোল্যাটারাল জাপানে যেতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দিচ্ছি। এই লোনটা আবার কিন্তু যে যাচ্ছে, তার অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে না। জাপানে যে কলেজে সে ভাষা শিক্ষার জন্য ভর্তি হবে, সেই জায়গায় আমরা টিউশন ফি দিয়ে দেব।’

ভাষা শিক্ষা ছাড়াও অভিবাসন খাতের উন্নয়নে নিজস্ব নিয়মে এই তহবিল ব্যবহার করতে পারবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

এদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণেও জোর দিতে হবে। অদক্ষ শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে তাদের আয় বাড়বে এবং রেমিট্যান্স আরও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলছেন, সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে ভাষা শিক্ষার জন্য ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের বেশির ভাগই অদক্ষ শ্রমিক। দক্ষতা বাড়ানোর বড় উপায় শ্রম চাহিদা আছে এমন দেশের ভাষা শিক্ষা।বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বেশকিছু অপ্রচলিত শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য ওই দেশের ভাষা জানা জরুরি। চাকরিদাতা দেশে যাওয়ার পর ভাষা শেখার জন্য এবার খরচের যোগান দেবে সরকার।এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে, এর আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক এক হাজার কোটি টাকার তহবিল সরবরাহ করবে। সেই টাকা দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক যেসব দেশে আমাদের কর্মী যাবে, তাদের বেসিক ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাতে টাকা দেবে।’তবে অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন খাত বিশেষজ্ঞরা এই তহবিলের সমালোচনা করছেন। প্রশ্ন তুলছেন এই ঋণের সঠিক ব্যবহার নিয়ে।সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, ‘ভাষা শিক্ষার জন্য ১০ লাখ কেন লাগবে? বিদেশ যাওয়ার পুরো প্রসেসেই তো এত টাকা লাগার কথা না। আর আপনি যদি উপরের একটা স্ল্যাব দিয়ে দেন, তাহলে তার নামে কিন্তু ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাবে। সুতরাং এটাকে রিয়েল সেন্সে নিয়ে আসা উচিত।’তবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বলছে, ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে আরোপ করা হয়েছে কঠিন শর্ত।প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম বলেন, ‘উইদাউট কোল্যাটারাল জাপানে যেতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দিচ্ছি। এই লোনটা আবার কিন্তু যে যাচ্ছে, তার অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে না। জাপানে যে কলেজে সে ভাষা শিক্ষার জন্য ভর্তি হবে, সেই জায়গায় আমরা টিউশন ফি দিয়ে দেব।’ভাষা শিক্ষা ছাড়াও অভিবাসন খাতের উন্নয়নে নিজস্ব নিয়মে এই তহবিল ব্যবহার করতে পারবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।এদিকে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণেও জোর দিতে হবে। অদক্ষ শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে তাদের আয় বাড়বে এবং রেমিট্যান্স আরও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলছেন, সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা