ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’ বক্তব্যের অডিও: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’ বক্তব্যের অডিও: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’—এমন বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠান।

স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত অডিও রেকর্ডটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, তদন্তে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের আইনগত উপাদান ও প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং প্রচলিত আইনের অধীনে প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া তদন্তের অগ্রগতি ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জনস্বার্থে যথাসম্ভব স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নোটিশদাতা অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, ‘প্রচারিত অডিও রেকর্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’

লিগ্যাল নোটিশে নোটিশপ্রাপ্তির পর গৃহীত আইনানুগ ব্যবস্থা সম্পর্কে জনস্বার্থে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য আইনের বাইরে গিয়ে এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


‘হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’ বক্তব্যের অডিও: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবে না’—এমন বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিশ পাঠান।স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।নোটিশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত অডিও রেকর্ডটির সত্যতা, উৎস, সম্পাদনা বা বিকৃতির সম্ভাবনা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, তদন্তে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের আইনগত উপাদান ও প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।এতে আরও বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং প্রচলিত আইনের অধীনে প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া তদন্তের অগ্রগতি ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জনস্বার্থে যথাসম্ভব স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।নোটিশদাতা অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, ‘প্রচারিত অডিও রেকর্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’লিগ্যাল নোটিশে নোটিশপ্রাপ্তির পর গৃহীত আইনানুগ ব্যবস্থা সম্পর্কে জনস্বার্থে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।এদিকে ওসি মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য আইনের বাইরে গিয়ে এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা