ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

নবম পে-স্কেল গেজেট জারি: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা

নবম পে-স্কেল গেজেট জারি: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) প্রজ্ঞাপন অবশেষে জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রজ্ঞাপন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এটি জারি হয়েছে। নতুন বেতনস্কেল গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট ২০টি গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ বা প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় নির্ধারিত করা হয়েছে। এত দিন এসব পদে মূল বেতন ছিল যথাক্রমে ৮৬ হাজার ও ৮২ হাজার টাকা।

গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির চিত্র

নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে বেতন বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।

গ্রেড-১-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

গ্রেড-৫-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা, গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেড-৯-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এর ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা হয়েছে। গ্রেড-১১-এর বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

গ্রেড-১২-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা, গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা, গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

তিন ধাপে বেতন বাস্তবায়ন, শতভাগ সুফল পেতে অপেক্ষা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হলেও শুরুতেই নতুন কাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না চাকরিজীবীরা। প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, নতুন স্কেলের বর্ধিত বেতন শতভাগ পেতে কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত এবং নতুন হারের ভাতাদি কার্যকর হতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। পাশাপাশি বিলুপ্ত করা হয়েছে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাও।

গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর দেখানো হলেও চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য বর্ধিত মূল বেতনের মাত্র ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হয়েছে। বাকি বর্ধিত অংশ এখনই দেওয়া হচ্ছে না।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়েও পুরো বেতন পাওয়া যাবে না। এই ছয় মাস নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ হারে প্রদান করা হবে। অর্থাৎ, আদেশ জারির পর পুরো এক বছর কর্মচারীরা তাদের নির্ধারিত বর্ধিত মূল বেতনের একটি বড় অংশ থেকেই বঞ্চিত থাকবেন। শতভাগ মূল বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত।

একই ধরনের বিভাজন রাখা হয়েছে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও। নিট পেনশনের স্ল্যাব অনুযায়ী বর্ধিত পেনশনের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ হারে প্রদান করা হবে। তারাও শতভাগ বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে। বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে বর্ধিত নিট পেনশনের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ হারে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তা যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ নিট পেনশন পাবেন। এ ছাড়া অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীগণ আদেশ জারির পূর্ব পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবেন।

আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা এসেছে ভাতাদির ক্ষেত্রে। উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ প্রদেয় অন্যান্য সব ভাতা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের স্কেলের (২০১৫ সালের আদেশ অনুযায়ী) আহরিত অঙ্কেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোর বাড়ি ভাড়াসহ যাবতীয় বর্ধিত ভাতা পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এর ওপর নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকেই বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা পুরোপুরি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই আদেশ জারির মধ্যবর্তী সময়ে কর্মচারীরা যে বিশেষ সুবিধা তুলেছেন, তা বকেয়া বেতনের সঙ্গে সমন্বয় বা কর্তন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাড়ি ভাড়া ভাতার নতুন হার

প্রজ্ঞাপনে এলাকা ও গ্রেড ভেদে বাড়ি ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চাকরি করা গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৫০ শতাংশ। গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৪৫ শতাংশ। আর গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন।

খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য বাড়ি ভাড়ার হার কিছুটা কম। এসব এলাকায় গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। একই এলাকায় গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৪০ শতাংশ, গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা পাবেন মূল বেতনের ৩০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া।

অন্যান্য এলাকার জন্য গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ হারে। এ ছাড়া গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা ৩০ শতাংশ এবং গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন।

ভাতা কমানো ও ইনক্রিমেন্টের নতুন হার

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলেও কয়েকটি ভাতার হার কমছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ও বাংলা নববর্ষ ভাতা। পাশাপাশি উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ার কারণে এসব ভাতার টাকার অঙ্ক আগের তুলনায় বাড়তে পারে।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পান। নতুন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ হার ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই বহাল থাকছে। পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার ও পরিমাণ বহাল রাখা হচ্ছে। ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমানের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোয় ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে।

সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা

চিকিৎসা ভাতা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এলাকাভেদে মূল বেতনের ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রযোজ্য হবে।

কর্মচারীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে মাসিক ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা), ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য টিফিন ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা মাসিক ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কার জন্য প্রযোজ্য, কার জন্য নয়

এই আদেশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিস (বেসামরিক ব্যতীত), পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, শিক্ষানবিশ, আউটসোর্সিং, দৈনিক ভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। একই সাথে নতুন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে ‘iBAS++’ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেডের নতুন নিয়ম

নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো পদে টানা আট বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রথমবার এ সুবিধা পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে একই পদে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুবার এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

যেসব স্থায়ী কর্মচারী ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ করেছেন, কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ করেননি, তারাও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড ও সার্বিক সেবা সন্তোষজনক হতে হবে।

উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে বেতন ও স্কেলের আর্থিক সুবিধা বাড়লেও এটি পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না। নতুন এ সুবিধা বেতনস্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। কোনো স্থায়ী কর্মচারী একই পদে উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা দুইবারের বেশি পাবেন না। আগের বেতনস্কেলের আওতায় একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন বেতনস্কেলের আওতায় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে কোনো কর্মচারী মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকলে, পরবর্তী ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া পদোন্নতির কোনো বিধান নেই এমন ‘ব্লকড’ পদে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও আট বছর চাকরি পূর্ণ করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে একই পদে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি (পে ফিক্সেশন)

একজন চাকরিজীবীর নতুন বেতন স্কেলে তার বেতন কত হবে, সেটি নির্ধারিত হবে ‘পে ফিক্সেশন’ বিধান অনুযায়ী। মূলত দুটি পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের কথা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে।

প্রথম পদ্ধতি: বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন আহরণকারী কোনো কর্মচারীর বেতন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই নির্ধারিত হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৩০ জুন একজন কর্মচারী ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। তিনি ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ জুলাই থেকে ১৬তম গ্রেডের বেতন স্কেল ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা। প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ২১ হাজার ৯০০ টাকা তার মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি: কোনো কর্মচারীর মূল বেতন যদি বর্তমান বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে বর্তমান বেতন ও ওই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে। এরপর সেই পার্থক্য অনুরূপ স্কেলের অর্থাৎ জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

যোগফল যদি নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সমান হয়, তাহলে ওই ধাপেই বেতন নির্ধারিত হবে। আর যদি অনুরূপ স্কেলে ওই অঙ্কের সমান কোনো ধাপ না থাকে, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার বর্তমান বেতন স্কেলের ধাপ হলো ১২,৫০০-১৩,১৩০-১৩,৭৯০...৩০,২৩০ টাকা। এখন ১ জুলাই থেকে ওই কর্মচারীর জন্য অনুরূপ নতুন বেতন স্কেল হলো ২৫,০০০-২৬,৩০০...৬০,৫০০ টাকা।

এখন হিসাবটি হবে এভাবে— বর্তমান বেতন স্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন থেকে একই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের বেতন বিয়োগ দিলে পার্থক্য হবে: ১৩,৭৯০-১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা। অতএব জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে এই ১,২৯০ টাকা যোগ করতে হবে। হিসাবটি হবে ২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা। কিন্তু অনুরূপ স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা নামে কোনো ধাপ নেই। তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপে অর্থাৎ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা বেতন নির্ধারিত হবে।

অবশ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিবের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড ১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও সমমর্যাদার পদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ দুই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না। কারণ, তাদের মূল বেতন নির্ধারিত; আর বাড়বে না।

বিশেষ ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণ

যে কর্মচারী প্রেষণে (নিজ দপ্তরের পরিবর্তে অন্য দপ্তরে চাকরি) কর্মরত আছেন, প্রেষণে কর্মরত না থাকলে তিনি তার মূল অফিস বা প্রতিষ্ঠানে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই ভিত্তিতে তার বেতন নির্ধারণ করা হবে। এভাবে ছুটিতে, সাময়িক বরখাস্ত, অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকলে কীভাবে বেতন নির্ধারণ করা হবে, তার নিয়মও বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যে কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি ৩০ জুন শেষ হয়েছে এবং ১ জুলাই অবসরে গেছেন, তিনি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুবিধা পাবেন না।

আর ২০২৬ সালের ১ জুলাই পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীর বেতন প্রথমে নিম্নপদে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদের বিধি অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণ করা হবে। ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের বেতনও নির্দিষ্ট নিয়মে নতুন স্কেলে নির্ধারণ করা হবে। তবে ছুটির সময়ে নতুন বেতনস্কেলের কারণে যে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি হবে, তা ছুটিকালীন সময়ের জন্য প্রাপ্য হবে না।

অর্থ বিভাগের জারি করা বিধানে যা আছে

গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন কাঠামো তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে এবং চাকরিজীবীরা তাদের বকেয়া বেতনও পাবেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া বেতন পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) পর এই প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। কমিশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে সরকার গঠনের পর গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন ও সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


নবম পে-স্কেল গেজেট জারি: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) প্রজ্ঞাপন অবশেষে জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রজ্ঞাপন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জারি করা হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এটি জারি হয়েছে। নতুন বেতনস্কেল গত ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট ২০টি গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ বা প্রথম গ্রেডের মূল বেতন নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় নির্ধারিত করা হয়েছে। এত দিন এসব পদে মূল বেতন ছিল যথাক্রমে ৮৬ হাজার ও ৮২ হাজার টাকা।গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির চিত্রনতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে বেতন বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ।গ্রেড-১-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। গ্রেড-২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।গ্রেড-৫-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা, গ্রেড-৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ২৯ হাজার থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা হয়েছে।এ ছাড়া গ্রেড-৯-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এর ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা হয়েছে। গ্রেড-১১-এর বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।গ্রেড-১২-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-১৩-এ ১১ হাজার থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা, গ্রেড-১৪-এ ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে।অন্যদিকে গ্রেড-১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ৯ হাজার থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, গ্রেড-১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা, গ্রেড-১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।তিন ধাপে বেতন বাস্তবায়ন, শতভাগ সুফল পেতে অপেক্ষাসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হলেও শুরুতেই নতুন কাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না চাকরিজীবীরা। প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, নতুন স্কেলের বর্ধিত বেতন শতভাগ পেতে কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত এবং নতুন হারের ভাতাদি কার্যকর হতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। পাশাপাশি বিলুপ্ত করা হয়েছে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাও।গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর দেখানো হলেও চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য বর্ধিত মূল বেতনের মাত্র ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হয়েছে। বাকি বর্ধিত অংশ এখনই দেওয়া হচ্ছে না।পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়েও পুরো বেতন পাওয়া যাবে না। এই ছয় মাস নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ হারে প্রদান করা হবে। অর্থাৎ, আদেশ জারির পর পুরো এক বছর কর্মচারীরা তাদের নির্ধারিত বর্ধিত মূল বেতনের একটি বড় অংশ থেকেই বঞ্চিত থাকবেন। শতভাগ মূল বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত।একই ধরনের বিভাজন রাখা হয়েছে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও। নিট পেনশনের স্ল্যাব অনুযায়ী বর্ধিত পেনশনের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ হারে প্রদান করা হবে। তারাও শতভাগ বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে। বিদ্যমান নিট পেনশন ২০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্বের ক্ষেত্রে বর্ধিত নিট পেনশনের ৪০ শতাংশ এবং ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ হারে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তা যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ নিট পেনশন পাবেন। এ ছাড়া অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীগণ আদেশ জারির পূর্ব পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবেন।আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা এসেছে ভাতাদির ক্ষেত্রে। উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ প্রদেয় অন্যান্য সব ভাতা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের স্কেলের (২০১৫ সালের আদেশ অনুযায়ী) আহরিত অঙ্কেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। নতুন কাঠামোর বাড়ি ভাড়াসহ যাবতীয় বর্ধিত ভাতা পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।এর ওপর নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকেই বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা পুরোপুরি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই আদেশ জারির মধ্যবর্তী সময়ে কর্মচারীরা যে বিশেষ সুবিধা তুলেছেন, তা বকেয়া বেতনের সঙ্গে সমন্বয় বা কর্তন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বাড়ি ভাড়া ভাতার নতুন হারপ্রজ্ঞাপনে এলাকা ও গ্রেড ভেদে বাড়ি ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চাকরি করা গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৫০ শতাংশ। গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৪৫ শতাংশ। আর গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন।খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকার জন্য বাড়ি ভাড়ার হার কিছুটা কম। এসব এলাকায় গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। একই এলাকায় গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৪০ শতাংশ, গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ এবং গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা পাবেন মূল বেতনের ৩০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া।অন্যান্য এলাকার জন্য গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন। গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা পাবেন ৩৫ শতাংশ হারে। এ ছাড়া গ্রেড-৯-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-৫-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীরা ৩০ শতাংশ এবং গ্রেড-৪-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১ ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া পাবেন।ভাতা কমানো ও ইনক্রিমেন্টের নতুন হারনতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলেও কয়েকটি ভাতার হার কমছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ও বাংলা নববর্ষ ভাতা। পাশাপাশি উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। তবে মূল বেতন বাড়ার কারণে এসব ভাতার টাকার অঙ্ক আগের তুলনায় বাড়তে পারে।বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পান। নতুন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ হার ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করা হচ্ছে।বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই বহাল থাকছে। পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।অন্যদিকে শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার ও পরিমাণ বহাল রাখা হচ্ছে। ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমানের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।নতুন বেতন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোয় ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে।সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রয়েছে।চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাচিকিৎসা ভাতা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এলাকাভেদে মূল বেতনের ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রযোজ্য হবে।কর্মচারীদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে মাসিক ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা), ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য টিফিন ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা মাসিক ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।কার জন্য প্রযোজ্য, কার জন্য নয়এই আদেশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিস (বেসামরিক ব্যতীত), পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, শিক্ষানবিশ, আউটসোর্সিং, দৈনিক ভিত্তিক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। একই সাথে নতুন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ অনলাইনে ‘iBAS++’ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেডের নতুন নিয়মনতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো পদে টানা আট বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রথমবার এ সুবিধা পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে একই পদে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুবার এ সুবিধা পাওয়া যাবে।যেসব স্থায়ী কর্মচারী ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ করেছেন, কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ করেননি, তারাও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড ও সার্বিক সেবা সন্তোষজনক হতে হবে।উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে বেতন ও স্কেলের আর্থিক সুবিধা বাড়লেও এটি পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না। নতুন এ সুবিধা বেতনস্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। কোনো স্থায়ী কর্মচারী একই পদে উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা দুইবারের বেশি পাবেন না। আগের বেতনস্কেলের আওতায় একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন বেতনস্কেলের আওতায় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে কোনো কর্মচারী মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকলে, পরবর্তী ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া পদোন্নতির কোনো বিধান নেই এমন ‘ব্লকড’ পদে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও আট বছর চাকরি পূর্ণ করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে একই পদে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি (পে ফিক্সেশন)একজন চাকরিজীবীর নতুন বেতন স্কেলে তার বেতন কত হবে, সেটি নির্ধারিত হবে ‘পে ফিক্সেশন’ বিধান অনুযায়ী। মূলত দুটি পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের কথা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে।প্রথম পদ্ধতি: বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন আহরণকারী কোনো কর্মচারীর বেতন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই নির্ধারিত হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৩০ জুন একজন কর্মচারী ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। তিনি ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ জুলাই থেকে ১৬তম গ্রেডের বেতন স্কেল ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা। প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ২১ হাজার ৯০০ টাকা তার মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।দ্বিতীয় পদ্ধতি: কোনো কর্মচারীর মূল বেতন যদি বর্তমান বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে বর্তমান বেতন ও ওই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে। এরপর সেই পার্থক্য অনুরূপ স্কেলের অর্থাৎ জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে।যোগফল যদি নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সমান হয়, তাহলে ওই ধাপেই বেতন নির্ধারিত হবে। আর যদি অনুরূপ স্কেলে ওই অঙ্কের সমান কোনো ধাপ না থাকে, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে।উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার বর্তমান বেতন স্কেলের ধাপ হলো ১২,৫০০-১৩,১৩০-১৩,৭৯০...৩০,২৩০ টাকা। এখন ১ জুলাই থেকে ওই কর্মচারীর জন্য অনুরূপ নতুন বেতন স্কেল হলো ২৫,০০০-২৬,৩০০...৬০,৫০০ টাকা।এখন হিসাবটি হবে এভাবে— বর্তমান বেতন স্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন থেকে একই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের বেতন বিয়োগ দিলে পার্থক্য হবে: ১৩,৭৯০-১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা। অতএব জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে এই ১,২৯০ টাকা যোগ করতে হবে। হিসাবটি হবে ২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা। কিন্তু অনুরূপ স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা নামে কোনো ধাপ নেই। তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপে অর্থাৎ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা বেতন নির্ধারিত হবে।অবশ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিবের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড ১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও সমমর্যাদার পদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ দুই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না। কারণ, তাদের মূল বেতন নির্ধারিত; আর বাড়বে না।বিশেষ ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণযে কর্মচারী প্রেষণে (নিজ দপ্তরের পরিবর্তে অন্য দপ্তরে চাকরি) কর্মরত আছেন, প্রেষণে কর্মরত না থাকলে তিনি তার মূল অফিস বা প্রতিষ্ঠানে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই ভিত্তিতে তার বেতন নির্ধারণ করা হবে। এভাবে ছুটিতে, সাময়িক বরখাস্ত, অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকলে কীভাবে বেতন নির্ধারণ করা হবে, তার নিয়মও বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যে কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি ৩০ জুন শেষ হয়েছে এবং ১ জুলাই অবসরে গেছেন, তিনি ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুবিধা পাবেন না।আর ২০২৬ সালের ১ জুলাই পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীর বেতন প্রথমে নিম্নপদে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদের বিধি অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণ করা হবে। ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের বেতনও নির্দিষ্ট নিয়মে নতুন স্কেলে নির্ধারণ করা হবে। তবে ছুটির সময়ে নতুন বেতনস্কেলের কারণে যে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি হবে, তা ছুটিকালীন সময়ের জন্য প্রাপ্য হবে না।অর্থ বিভাগের জারি করা বিধানে যা আছেগত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন কাঠামো তিন ধাপে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে এবং চাকরিজীবীরা তাদের বকেয়া বেতনও পাবেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া বেতন পাবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য এই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) পর এই প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করা হয়। কমিশন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে সরকার গঠনের পর গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন ও সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা