ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের বিদায়ী ভাষণ: যুদ্ধ বন্ধ, এআই নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু মোকাবিলার আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের বিদায়ী ভাষণ: যুদ্ধ বন্ধ, এআই নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু মোকাবিলার আহ্বান

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার শেষ ভাষণে বিশ্বনেতাদের যুদ্ধ বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মনোযোগ এবং জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব প্রতিষ্ঠানকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

সাবেক পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক নজরদারির আহ্বান তিনি এমন সময়ে জানালেন, যখন জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ শক্তিশালী এই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য এআই খাতের নেতাদের একটি ব্রিফিংয়ে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নিউইয়র্কে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রায় ১৩০টি দেশের নেতাদের সামনে জাতিসংঘের ভেতরের অচলাবস্থা নিয়ে কথা বলেন গুতেরেস। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির নেতারা এই কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলে প্রতিনিধিরা টানা করতালির মাধ্যমে গুতেরেসকে সমর্থন জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ‘দূষণকারীদেরই মূল্য দিতে হবে’ বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে এক দশক ধরে এসব বিষয়ের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি।

এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে গুতেরেসের এক দশকের দায়িত্বের সমাপ্তি পর্ব শুরু হলো। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিভিন্ন সংঘাতে জাতিসংঘকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবে সংস্থাটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তবে একই সময়ে বড় শক্তিগুলো ক্রমেই জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে গেছে এবং ওয়াশিংটন সংস্থাটির অর্থায়ন কমিয়েছে।

গুতেরেস সাধারণ পরিষদকে বলেন, “প্রযুক্তিগত বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোকে উদীয়মান নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কিত তথ্য ভাগাভাগি করতে হবে, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে সহযোগিতা করতে হবে এবং এমন অভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে, যা আমাদের সবাইকে সুরক্ষা দেবে।”

নিউইয়র্কে সমবেত বিশ্বনেতাদের তিনি এআইয়ের দায়িত্বশীল বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন নজরদারির আওতায় এআইয়ের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বহুপক্ষীয় কাঠামো গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের বিদায়ী ভাষণ: যুদ্ধ বন্ধ, এআই নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু মোকাবিলার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নিউইয়র্ক: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার শেষ ভাষণে বিশ্বনেতাদের যুদ্ধ বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মনোযোগ এবং জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব প্রতিষ্ঠানকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে।সাবেক পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক নজরদারির আহ্বান তিনি এমন সময়ে জানালেন, যখন জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ শক্তিশালী এই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য এআই খাতের নেতাদের একটি ব্রিফিংয়ে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।নিউইয়র্কে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রায় ১৩০টি দেশের নেতাদের সামনে জাতিসংঘের ভেতরের অচলাবস্থা নিয়ে কথা বলেন গুতেরেস। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির নেতারা এই কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলে প্রতিনিধিরা টানা করতালির মাধ্যমে গুতেরেসকে সমর্থন জানান। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ‘দূষণকারীদেরই মূল্য দিতে হবে’ বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কারের আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে এক দশক ধরে এসব বিষয়ের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি।এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে গুতেরেসের এক দশকের দায়িত্বের সমাপ্তি পর্ব শুরু হলো। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিভিন্ন সংঘাতে জাতিসংঘকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবে সংস্থাটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তবে একই সময়ে বড় শক্তিগুলো ক্রমেই জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে গেছে এবং ওয়াশিংটন সংস্থাটির অর্থায়ন কমিয়েছে।গুতেরেস সাধারণ পরিষদকে বলেন, “প্রযুক্তিগত বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোকে উদীয়মান নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কিত তথ্য ভাগাভাগি করতে হবে, পরীক্ষা ও মূল্যায়নে সহযোগিতা করতে হবে এবং এমন অভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে, যা আমাদের সবাইকে সুরক্ষা দেবে।”নিউইয়র্কে সমবেত বিশ্বনেতাদের তিনি এআইয়ের দায়িত্বশীল বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন নজরদারির আওতায় এআইয়ের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বহুপক্ষীয় কাঠামো গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা