ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আপত্তিকর অবস্থায় আটক দুই শিক্ষার্থী পরিবারের জিম্মায়, বিয়ে হয়নি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আপত্তিকর অবস্থায় আটক দুই শিক্ষার্থী পরিবারের জিম্মায়, বিয়ে হয়নি

কুষ্টিয়া: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে মাদ্রাসা মসজিদ-সংলগ্ন কাঁঠালবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়।

জানা যায়, আটককৃত ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ বর্ষের এবং ছাত্রী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী। গত সাত দিন ধরে ওই শিক্ষার্থী যুগল রাতের আঁধারে স্থানীয় এলাকার বাগানের ভেতরে আসা-যাওয়া করতেন। স্থানীয় কয়েকজন তাদের ওপর নজর রাখলেও এতদিন তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার রাত ৮টার পর তারা বাগানের ভেতরে দুই ঘরের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ও দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানসহ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রেমিক যুগল উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনা শেষে উভয় শিক্ষার্থীর লিখিত সম্মতিতে শনিবার তাদের দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আটককৃত ছেলে শিক্ষার্থী বলেন, “গত সাত-আট মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। আমি ভুল করেছি। তা ছাড়া আমি ওই মেয়েকে ভালোবাসি। আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক আমরা তাদের উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। আমরা আজ ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করবো।”

তবে শুক্রবার রাতে আটকের পর শনিবার তাদের বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে আলোচনা করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাদের।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি ও সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আটক হওয়া ছাত্রকে তার পরিবারের কাছে এবং ছাত্রীকে সসম্মানে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “উভয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ছেলে-মেয়ে দুজনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আপত্তিকর অবস্থায় আটক দুই শিক্ষার্থী পরিবারের জিম্মায়, বিয়ে হয়নি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কুষ্টিয়া: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে মাদ্রাসা মসজিদ-সংলগ্ন কাঁঠালবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়।জানা যায়, আটককৃত ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ বর্ষের এবং ছাত্রী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী। গত সাত দিন ধরে ওই শিক্ষার্থী যুগল রাতের আঁধারে স্থানীয় এলাকার বাগানের ভেতরে আসা-যাওয়া করতেন। স্থানীয় কয়েকজন তাদের ওপর নজর রাখলেও এতদিন তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার রাত ৮টার পর তারা বাগানের ভেতরে দুই ঘরের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন।পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ও দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানসহ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রেমিক যুগল উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনা শেষে উভয় শিক্ষার্থীর লিখিত সম্মতিতে শনিবার তাদের দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।আটককৃত ছেলে শিক্ষার্থী বলেন, “গত সাত-আট মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। আমি ভুল করেছি। তা ছাড়া আমি ওই মেয়েকে ভালোবাসি। আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।”এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক আমরা তাদের উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। আমরা আজ ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করবো।”তবে শুক্রবার রাতে আটকের পর শনিবার তাদের বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে আলোচনা করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাদের।শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি ও সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত ছিলেন।সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আটক হওয়া ছাত্রকে তার পরিবারের কাছে এবং ছাত্রীকে সসম্মানে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “উভয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, ছেলে-মেয়ে দুজনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।”

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা