কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির রেশ কাটতে না কাটতেই সেখানে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা নিশ্চিত তথ্য
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী জানান, এ ধরনের একটি তথ্য তাদের কাছে এলেও সেখানে আদতে কোনো লাশ রয়েছে কি না বা থাকলে কতটি রয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম লাশের বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে বর্তমানে সেখানে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লাশের খবরটি তারা শুনেছেন এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে সেনাসদস্য নিহত
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর ওই অভিযানে সশস্ত্র মানবপাচারকারী দলের গুলিতে মো. তিতাস শেখ (২৮) নামের এক সেনা সদস্য নিহত হন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে জিম্মি করে রাখার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে ।
নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।
সেনাবাহিনী তার আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ।
এদিকে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন