গণবার্তা

বিসিবি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টা দাবি: তামিম অ্যাডহক কমিটির প্রধান, বুলবুলের নিজেকে বৈধ সভাপতি ঘোষণা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাল ধরে ‘হারানো’ সুনাম পুনরুদ্ধারকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে দায়িত্ব নিয়েছেন নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। অন্যদিকে, ভাঙা পর্ষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে নিজেকে ‘একমাত্র বৈধ সভাপতি’ বলে দাবি করেছেন।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তামিম। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সভাপতির চেয়ারে বসেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।তামিমের অঙ্গীকার: সুনাম ফিরিয়ে আনাদায়িত্ব গ্রহণের পর ১১ সদস্যের কমিটির সঙ্গে প্রথম বোর্ড সভায় বসেন তামিম। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আইসিসি ও এসিসিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে তামিমকে মনোনীত করা হয় এবং বোর্ডের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয় তানজিল চৌধুরীকে।সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও সুনাম ফিরিয়ে আনা। গত দেড় বছরে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করাই বড় অগ্রাধিকার।’তিন মাসের জন্য দায়িত্ব পাওয়া এই কমিটির অন্যতম কাজ দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা। তামিম আশ্বস্ত করেন, প্রক্রিয়া অত্যন্ত সততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে। বর্তমান কমিটির যে কেউ পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং তিনিও নির্বাচনে লড়বেন বলে ইঙ্গিত দেন।বুলবুলের পাল্টা অবস্থান: আমি বৈধ সভাপতিঅন্যদিকে, এনএসসির সিদ্ধান্তের পর এক বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, গত ৫ এপ্রিল এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে। ওই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিশন।তিনি দাবি করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে ওঠা আপত্তি নির্বাচনের আগেই আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। তাই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।এনএসসির পদক্ষেপকে ‘এখতিয়ারবহির্ভূত’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করে বুলবুল বলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে হওয়া তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচিত পর্ষদকে সরিয়ে দেওয়া। তিনি এটিকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন।তামিমের অ্যাডহক কমিটির কোনো বৈধতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই কমিটির কর্তৃত্ব স্বীকার করি না।’ হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে তিনিই বিসিবির বৈধ প্রধান বলে জানান। আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আইসিসিকে সংকটে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।ক্রিকেট মহলে শঙ্কাএই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। বিসিবির গত ১২ বছরের ইতিহাসে তামিম তৃতীয় সাবেক অধিনায়ক হিসেবে এই পদে আসীন হলেন। তিন মাসের মধ্যে সংস্কার ও নির্বাচন আয়োজন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, বুলবুল আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

বিসিবি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টা দাবি: তামিম অ্যাডহক কমিটির প্রধান, বুলবুলের নিজেকে বৈধ সভাপতি ঘোষণা